Sylhet Today 24 PRINT

রাস্তার ভূমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ: জব্দ হলো নির্মাণ সামগ্রী

বড়লেখা প্রতিনিধি: |  ২৬ আগস্ট, ২০২১

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও মৌখিক আপত্তি উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে সরকারি রাস্তার ভূমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ ওঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে পুলিশ প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ, মুচলেকা আদায় ও নির্মাণ সামগ্রী জব্দ করে তা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দিয়েছে। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের উত্তর বাঘমারা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

অভিযোগ সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, সুজানগর ইউপির উত্তর বাঘমারা ও নাজিরখাঁ গ্রামের কয়েক হাজার জনসাধারণ বাঘমারা কালাচাঁদ বাড়ির নিকটবর্তী ব্রিজের সংযোগস্থলের সরকারি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিক হারিছ আলী, আখলিছ আলী লয়াই, আপ্তাব আলী, ছাদ উদ্দিন প্রমুখ তাদের বসতবাড়ির সম্মুখের সরকারি রাস্তার পশ্চিমাংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি নেন। নির্মাণ সামগ্রী মজুত ও ইটসলিং রাস্তা সংলগ্ন ভূমি দখল করে পিলার স্থাপনের গর্ত খুড়া দেখে গ্রামবাসী তাদেরকে আপত্তি জানান। এরপরও তারা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করলে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। বুধবার রাতের আঁধারে হারিছ আলী গংরা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান। রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। কিন্তু থানা পুলিশের বাধা অমান্য করে ভোরবেলা তারা বেইজ ঢালাই ও কয়েকটি পিলার নির্মাণ করেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সামগ্রী জব্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নছিব আলীর জিম্মায় দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী মনির উদ্দিন, সাবেক ইউপি মেম্বার চেরাগ উদ্দিন, আব্দুল বাছিত, খলিলুর রহমান, বোরহান উদ্দিন, জয়নাল উদ্দিন, ছালমান আহমদ, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ বলেন, ‘উত্তর বাঘমারা ও নাজির খাঁ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ সরকারি এ ইটসলিং রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। রাস্তাটি হারিছ আলী, আখলিছ আলী লয়াই, আপ্তাব আলী, ছাদ উদ্দিন গংদের বাড়ির সম্মুখে হওয়ায় জোরপূর্বক তারা রাস্তার ভূমি দখল করলে পাকার দেওয়াল নির্মাণ করতে মালামাল মজুত ও গর্ত করা দেখে আমরা তাদেরকে বাধা দেই। না মানায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশের বাধা নিষেধ সত্তে¡ও রাতের আঁধারে প্রাচীর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যায়। রাস্তার ভূমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করা হলে দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে।’

অভিযুক্ত হারিছ আলী, আখলিছ আলী লয়াই, আপ্তাব আলী, ছাদ উদ্দিন পুলিশের হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ ও নির্মাণ সামগ্রী জব্দের সত্যতা স্বীকার করে জানান, তারা নিজেদের ভূমিতে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে গ্রামের কয়েকজন বাধা-নিষেধ করেন। বিষয়টির নিষ্পত্তির আগেই এভাবে দেওয়াল নির্মাণের কাজ চালানো তাদের ঠিক হয়নি।

বড়লেখা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরিদর্শক সুব্রত কুমার দাস আলাপকালে বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে রাস্তার সীমানা নির্ধারণ ব্যতিত প্রাচীর নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। তা উপেক্ষা করে বুধবার রাতের আঁধারে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কাজ শুরু করলে তাদের মৌখিক নিষেধ করা হয়। কিন্তু নিষেধ অগ্রাহ্য করে ভোরবেলা তারা বেইজ ঢালাই ও পিলার নির্মাণ করেছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.