Sylhet Today 24 PRINT

কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়ক নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ২৭ আগস্ট, ২০২১

জগন্নাথপুরে কুশিয়ারা নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ১০ গ্রামের লোকজনের চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নে কুশিয়ারা নদীর তীর ঘেঁষা রানীগঞ্জ দক্ষিণপাড় এলাকায় রয়েছে আলমপুর-রৌয়াইল সড়ক। গ্রামীণ এই সড়কে চলছিল পাকাকরণের কাজ। গত কয়েকদিন ধরে হঠাৎ করেই কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ছে সড়কটি। এরমধ্যেই সড়কের বালিশ্রী এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কের নতুন কাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কটি বিলীন হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের নোয়াগাঁও, আলমপুর, বালিশ্রী, রৌয়াইল, হরিনাকান্দি, মেঘারকান্দিসহ ১০ গ্রামের লোকজন যাতায়াত করে আসছিলেন।

উপজেলা এলজিইডি ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, স্থানীয় ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর তান্ডবে ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর যাতায়াতের প্রধান সড়ক, ঘর-বাড়ী, মসজিদ, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়ে গেছে।

রানীগঞ্জের দক্ষিণ এলাকায় নদীর তীরবর্তী আলামপুর-রোয়াইল-বালিশ্রী সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এ সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিআইডি) বাস্তবায়নে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে আলমপুর-ভালিশ্রী-রৌয়াইল অংশের ৩ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। কাজ পান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিলেটের এমআই ইঞ্জিনিয়ার। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এরমধ্যে সড়কে ইটের খোয়া বিছিয়ে রোলার এর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এমতাবস্থায় বালিশ্রী গ্রামের গুলজার মিয়ার বাড়ি সামনে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গণে পড়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি।

রৌয়াইল গ্রামের মাহবুব হোসেন মিঠু জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ১৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এই সড়ক দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। নদী ভাঙনে এরমধ্যে গ্রামের প্রধান সড়কটি বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসির যাতায়াতের নতুন সড়কের যখন দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর পাকাকরণের কাজ চলছিল তখন ফের নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে সড়কটি।

বালিশ্রী গ্রামের আঙ্গুর মিয়া জানান, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সড়কটি নদীতে বিলীন যাবে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে পড়বে।

উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিআইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, নদী ভাঙ্গণের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য উপজেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, এ ব্যাপারে জগন্নাথপুরের উপ-সহকারি প্রকৌশলীকে সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.