রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর | ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২১
রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস আজ ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী জগন্নাথপুর উপজেলার প্রাচীনতম রানীগঞ্জ বাজারে গুলি চালিয়ে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে। নরপশুরা পেট্রোল দিয়ে বাজারটি জ্বালিয়েও দেয়।
ইতিহাস মতে, ১৯৭১ সালের এই দিনে শান্তি কমিটি গঠনের কথা বলে স্থানীয় রাজাকাররা বাজার ব্যবসায়ী, বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা লোকজন, বড় বড় নৌকার মাঝিসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাজারের একটি বড় দোকানে জমায়েত করে। সেদিন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে জড়ো করে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সকলকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। পরে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার সরবরাহ করতেন। বিষয়টি স্থানীয় কিছু রাজাকার জানিয়ে দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তাণ্ডবে প্রায় দুই শতাধিক লোক শহিদ হলেও হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।
২০১০ সাল থেকে এ গণহত্যা দিবসে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করবে বলে জানা গেছে।
শহিদ গাজী ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে।
শহীদ গাজী পাঠাগারের সভাপতি আবুল কাশেম আকমল জানান, অন্যান্য বছরের মতো এবারে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ্মাসন সিংহ জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়েছে।