Sylhet Today 24 PRINT

ভোটাররা নিরব, কেন্দ্রে আসবে তো?

সিলেট-৩ আসনে উপ নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রচার শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালেই। এখন চলছে শেষ মূহূর্তের হিসেব নিকেষ। শেষবারের মতো মিলিয়ে নেওয়া ভোটের ছক। শনিবার সকাল থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
প্রতিদ্বন্দ্বি ৪ প্রার্থীর মধ্যে একজন শুরু থেকেই নীরব। কোনো প্রচারে নেই। বাকী ৩ জন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

তবে স্থানীয়রা মনে করছেন, ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিত করানোই হবে প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যে প্রার্থী নিজের বেশিসংখ্যক ভোটারদের কেন্দ্রে হাজির করাতে পারবেন তিনি এগিয়ে যাবেন লড়াইয়ে।

সিেেলটের বালাগঞ্জ, ফেঞ্জুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা এই তিন উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এখানে এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫২ হাজার।

বৃহস্পতিবার এই তিন উপজেলার বিভিন্ন বয়সের ১০ ব্যক্তির সাথে নির্বাচন নিয়ে আলাপ হয়। তারা প্রত্যোকের মত, এই নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন কোন্ োআগ্রহ নেই। মানুষদের মধ্যে ভোট নিয়ে মাতামাতিও নেই।

এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, গত দুইটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়। গত দুই জাতীয় নির্বাচনেই ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিলো খুব সামান্য। এর মধ্যে এটি উপ নির্বাচন। এতে বিএনপিসহ বড় কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এই নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহী নয়।

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে হাজির করানোর মধ্যেই প্রার্থীদের জয় পরাজয় নির্ভর করবে বলে মন্তব্য তাদের। তবে এখন পর্যন্ত এই নির্বাচন নিয়ে ভয়ভীতিদর কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি বলেও জানান তারা।

ফেঞ্চুগঞ্জের একটি কলেজের শিক্ষক গৌছুল আলম বলেন, প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও ভোটারদের মধ্যে সেইভাবে আগ্রহ নেই। এই ভোট নিয়ে মামতামাতিও কম। তবে এমনও হতে পারে তারা হয়তো এখন নীরব আছেন। কিন্তু ভোটের দিন ঠিকই ভোট কেন্দ্রে যাবেন।

দক্ষিণ সুরমা উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের প্রবীন রমিজ উদ্দিন বলেন, উপ নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা কম। নির্বাচন নিয়ে এক ধরণের নিরুৎসাহও তৈরি হয়েছে। তাছাড়া বিএনপি ভোটে নেই। এসব কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। এখন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা যত বেশি সংখ্যক ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারবেন ততই তাদের জয়ের পাল্লা ভারী হবে।
এই উপ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪ জন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক ছাড়াও এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ শফি আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জুনায়েদ মোহাম্মদ মিয়া। জুনায়েদ শুরু থেকেই তেমন প্রচারে নেই। তবে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছেন অন্য তিন প্রার্থী।

এই তিন প্রার্থীই বলছেন, ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ আছে। তবে এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে অগ্রনী ভ’মিকা পালন করনতে হবে বলে মত আতিক ও শফির।

এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৯টি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে হাজির করতে কেন্দ্রভিত্তিক আলাদা আলাদা কমিটি করেছে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ। তারা ভোটের দিন ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসতে কাজ করবে বলে জানা গেছে। তবে বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে আছেন শফি আহমদ চৌধুরী। ব্যক্তি ইমেজই তার একমাত্র ভরসা।

দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের জান আলী শাহ আদর্শ প্রার্থকি বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন দলটির মহানগর শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজতকান্তি গুপ্ত। তিনি বৃহস্পতিবার নিউজবাংলাকে বলেন, ভোট নাগরিকদের অধিকার। আমরা আশা করছি মানুষজন তাদের এই অধিকার প্রয়োগ করতে ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আমারও ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে উৎসাহিত করতে কাজ করছি।

ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার পরিবেশ নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকেও তৈরি করতে হবে জানিয়ে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী আতিকুর রহমান আতিক বলেন, মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে। তারা ভোট দিতে চায়। এখন দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের। ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে।

আতিক অভিযোগ করে বলেন, অনেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে না আসেন। বলা হচ্ছে, ভোটকেন্দ্রে ঝামেলা হবে। এমন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করলে  তো মানুষ ভোট দিতে আসবে না। কেউই খামাখা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

তিনি বলেন, এরকম ভীতির পরিস্থিতি তৈরি করলে আজকে যেমন বিএনপি নির্বাচনে আসছে না, আগামীতে হয়তো জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে আসবে না। ফলে নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসনকেই ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মোটরগাড়ি প্রতীকের প্রার্থী শফি আহমদ চৌধুরী বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে জনগন অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে আসবে। মানুষ তাদের রায় জানাতে চায়। কিন্তু মানুষ যদি দেখ তারা ভোট দিলেও কোনো লাভ হবে না। তাদের রায় ছিনিয়ে নেওয়া হবে, তাহলে আর মানুষজন কেন্দ্রে আসবে না।

তবে নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহ রয়েছে এবং ভোটের পরিবেশও খুব ভালো জানিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমি যেখানেই গিয়েছি বিপুল সাড়া পেয়েছি। মানুষ খুব আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছে। আশা করছি ভোটের দিনও এটা অব্যাহত থাকবে।

সিলেটের নির্বাচনী পরিকেবশ নিয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, আমরা আশা করছি মানুষজন ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের রায় প্রদান করবেন। কোথাও কোনো ভয়ভীতির পরিবেশ নেই।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তার মৃত্যুতে আসনটি শূণ্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ২৮ জুলাই আসনটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উচ্চ আদালত নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন। এই উপ নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রেই ইভিএমে ভোট হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.