Sylhet Today 24 PRINT

হবিগঞ্জে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

রোববার সকাল। স্নিগ্ধ এই সকাল অন্য দিনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত রাজপথ। সবাই উচ্ছ্বসিত। হেসে-নেচে মা-বাবার সাথে ছুটছে প্রিয় ক্যাম্পাসে। এ যেন এক নতুন আনন্দের দিন। গত দেড় বছরে এমন দৃশ্য দেখা যায়নি হবিগঞ্জ শহরের কোথাও।

হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বিকেজিসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বিয়ার ল্যাবরেটরি স্কুলে গিয়ে উৎসবের দৃশ্য দেখা যায়। শুধু এই তিন প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো জেলা জুড়েই ছিল শিক্ষার্থীদের উৎসবের আমেজ। তবে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সংখ্যা একেবারেই কম ছিল। শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘ লকডাউনে অনেক শিক্ষার্থী গ্রামে বসবাস করছেন। যে কারণে উপস্থিতি কম। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই সংকট কেটে যাবে।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় প্রথম দিনের মতো স্কুলে গিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র তানভীর আহমেদ সাদ বলে, ‘অনেক দিন পর স্কুলে আসছি। আমরা আমরা মনোযোগ দিয়ে লেখা পড়া করতে পারব। আমাদের প্রিয় স্যার, ম্যাডাম এবং বন্ধুদের সাথে অনেক দিন পর দেখা হয়েছে। তাই আমি অনেক খুশি। আমি এখন থেকে নিয়মিত স্কুলে আসতে চাই।’

হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থী সায়েম আহমেদ বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর ধরে স্কুল বন্ধ। যে কারণে স্কুলে যেমন লেখাপড়া হয়নি, তেমনি বাড়িতেও খুব একটা লেখা পড়া করা হয়নি। বর্তমানে স্কুল খুলে দেয়ায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আবারও আমরা লেখাপড়া মনোযোগ দিতে পারব। এছাড়া সামনে আমাদের পরীক্ষা, তাই নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্লাস করাটাও আমাদের জন্য জরুরী।’

এদিকে, স্কুল খুলে দেয়ায় আনন্দিত অভিভাবক ও শিক্ষকরাও। জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কার্যক্রম। স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য মাস্ক, হাত ধুয়ার বেসিন ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন স্কুলকে নতুনভাবে সাজাতে দেখা গেছে। ফুল-বেলুন ও রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সাজানো হয়েছে পুরো প্রতিষ্ঠানকে। অনেক স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন শিক্ষকরা।

শহরের জে কে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা রয়েছে ৬ ফুটের বেঞ্চ হলে ২ জন এবং ৩ ফুটের বেঞ্চ হলে একজন শিক্ষার্থী বসবে। তবে আমাদের সবগুলো বেঞ্চ ৬ ফুট হওয়ার কারণে দুইজন শিক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা নিয়েছি। এছাড়া যে শিক্ষার্থীরা মাস্ক না নিয়ে স্কুলে আসবে তাদেরকে মাস্ক দেয়ারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

হবিগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক রাধিকা রঞ্জন দাস বলেন, ‘প্রতিটা শিক্ষার্থী আমার সন্তান। অনেকদিন পর আমি আমার প্রিয় সন্তানদের দেখতে পেরে অনেক খুশি। সৃষ্টিকর্তা যেন আমাদের করোনা ভাইরাস থেকে দূরে রাখেন।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে গেছে। তাই আমরা চেষ্টা করব তাদেরকে আলাদাভাবে যত্ন নেয়ার। পাশাপাশি অভিভাবদেরকেও নিজেদের সন্তানদের প্রতি আলাদাভাবে যত্ন দিতে হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.