নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ছয় মাস পর জামিন পেলেও এখনও কারগার থেকে মুক্তি মেলেনি সুনামগঞ্জের শাল্লার ঝুমন দাসের (২৫)।
উচ্চ আদালতের জামিনের আদেশ এখনও সুনামগঞ্জ কারাগারে এসে পৌঁছায়নি। ফলে অপেক্ষায়ই থাকতে হচ্ছে ঝুমনের পরিবারকে। আদালতের আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে রোববার হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার শর্তসাপেক্ষে একবছরের জন্য ঝুমনকে জামিন দেন হাই কোর্ট। ঝুমন দাস সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কারাবন্দি মামুনুল হককে নিয়ে সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আইনজীবীদের বরাত দিয়ে ঝমুনের ভাই নুপুর দাস বলেন, আদালতের জামিন আদেশের সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছালে ঝুমন মুক্তি পাবেন। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববারের দিকে সার্টিফাইড কপি কারাগারে এসে পৌঁছাতে পারে। ফলে রোববারের আগে তার মুক্তি মিলছে না।
এদিকে ঝমুনের জামিনের খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী সুইটি রানী দাস। তিনি বলেন, ‘স্বামীর জামিনের খবরে আমরা খুশি। এখন তিনি কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসবেন, আমরা এটাই চাই।’
ঝুমনের ছোট বোন মানিকা দাস বলেন, ‘এই কয়েকটা মাস বড় কষ্টে কাটিয়েছি। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। জামিনের খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা দাদা আসার অপেক্ষায় আছি।’
মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ১৭ মার্চ সকালে ঝুমনের নিজ গ্রাম সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ের আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। সময় নোয়াগাঁওয়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ঝুমনকে ১৬ মার্চ রাতে আটক করে পুলিশ। পরের দিন তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
২২ মার্চ শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ঝুমনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ১৭ মার্চ থেকে তিনি কারাগারে আছেন। এরপর তার মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জ, সিলেট ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালিত হয়। সুনামগঞ্জে ঝুমন দাসের আইনজীবী একাধিকবার জামিনের আবেদন করলেও তার জামিন হয়নি। পরে হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়।
এদিকে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলার ঘটনায় শাল্লা থানায় দুটি এবং আদালতে একটি মামলা হয়। এর মধ্যে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। অন্য দুটি মামলার মধ্যে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও হবিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিবেকানন্দ মজুমদার বাদী হয়ে থানায় একটি এবং ঝুমন দাশের মা নিভা রানী দাস আদালতে আরেকটি মামলা করেন। এসব মামলার আসামি প্রায় দুই হাজার।
ঘটনার চার দিন পর ২০ মার্চ পুলিশ এই হামলার মূল উসকানিদাতা দিরাই উপজেলার নাসনি গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বাধীনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি গত ২১ জুন জামিন পান। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জামিনে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঝুমন দাস একসময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রেতার কাজ করতেন। পরে নিজেই প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা শুরু করেন। তার স্ত্রী সুইটি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে পড়েন। এই দম্পতির এক বছর বয়সী একটি ছেলে আছে। এ ছাড়া পরিবারে তার মা, এক ভাই ও দুই বোন আছেন। ঝুমনের আয়েই সংসার চলে।
সুনামগঞ্জে ঝুমন দাসের আইনজীবী দেবাংশু শেখর দাশ বলেন, উচ্চ আদালতের জামিনের কাগজপত্র সুনামগঞ্জে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিননামা দাখিলের আবেদন করব। আদালতের আদেশের কপি কারাগারে গেলেই তিনি মুক্তি পাবেন।