নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ নভেম্বর, ২০১৫
আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই সিলেটে চলছে প্রায় পাঁচ শতাধিক পাথর ভাঙ্গার কল (স্টোন ক্রাশার মেশিন)। যত্রতত্রভাবে এসব স্টো ক্রাশার মেশিন স্থাপনের ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে পরবেশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিস্টরা বলছেন, স্টোন ক্রাশার মেশিনগুলোকে নিয়ে আলাদা স্টোন ক্রাশান নির্মানের কাজ চলছে। অচীরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
জানা যায়, সিলেটের সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট এ পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিন। এসব ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং যথাযথ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে গ্রহণযোগ্য স্থানে স্থানান্তর করতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) একটি রীট মামলা (রীট পিটিশন নং ৭৫৫২/২০১৫) দায়ের করে। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ৩ আগষ্ট সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এবং জনাব বিচারপতি কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দ-এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ অবৈধ, অনিয়ন্ত্রিত এবং অননুমোদিতভাবে স্থাপিত ও পরিচালিত স্টোন ক্রাশার মেশিনকে কেন আইন বর্হিভূত ঘোষনা করা হবে না মর্মে বিবাদীদের উপর রুলনিশি জারি করেন।
তবে রুল জারি করার ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বন্ধ করা যায় নি অনুমোদনহীন ক্রাশার মেশিন। বন্ধ হয়নি অনিয়ন্ত্রিতভাবে যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব ক্রাশার মেশিনের কার্যক্রম।
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, সিলেটে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টোন ক্রাশার মেশিন রয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই পরিবশগত ছাড়পত্র নেই। অনেকটি আবার গড়ে ওঠেছে আবাসিক এলাকায়।
এ বাপরে সিলেট স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রায় আট মাস ধরে ভারত থেকে পাথর আমদানী বন্ধ রয়েছে। ফলে পাথর সঙ্কটে স্টোন ক্রাশার মিলগুলোর বেশিরভাগেরই এখন তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
বেলা, সিলেটের সমন্বয়ক এডভোকেট শাহ শাহিদা আক্তার বলেন, আমাদের রিটের প্রেক্ষিতে আদালত স্টোন ক্রাশার মেশিনগুলোকে কেন অবৈধ ঘোষনা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছিলেন। এছাড়া যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা ক্রাশার মেশিনগুলোকে এক স্থানে নিয়ে এসে একটি জোন প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেটের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্টোন ক্রাশার মেশিনগুলোকে এক স্থানে নিয়ে এসে আলাদা একটি স্টোন ক্রাশার জোন স্থাপনের কাজ চলছে। অচীরেই তা বাস্তবায়িত হবে।