Sylhet Today 24 PRINT

ফেঞ্চুগঞ্জে রেললাইনে নেই ক্লিপ-হুক, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু

রুমেল আহসান, ফেঞ্চুগঞ্জ |  ৩০ অক্টোবর, ২০২১

ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দেশের অন্যতম পুরনো রেললাইন সিলেট-আখাউড়া রেলপথ সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। এর মধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও স্টেশন থেকে ঢাকা অভিমুখী কুলাউড়ার ভাটেরা স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন শোচনীয় অবস্থায় পৌঁছেছে। রেললাইনের এই অংশে ক্লিপ-হুক, নাটবল্টু চুরি, স্লিপার পচে যাওয়া, স্লিপারের হুক উঠে আসা, লাইনের নিচের মাটি ও পাথর সরে যাওয়া নিয়মিত ঘটনা। ফলে ট্রেনের লাইনচ্যুতিও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জে মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ঢাকা ও সিলেটের পথে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় বেশি ঘটছে লাইনচ্যুতির ঘটনা।

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনে গত কয়েক বছর ধরেই বেড়ে গেছে রেল দুর্ঘটনা। কিছুদিন পর পরই এই রুটে দুর্ঘটনায় পড়ছে ট্রেন। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এই রুটে ট্রেন চলাচল।

এই রেলপথে ব্রিটিশ আমলের তৈরি রেল সেতু ও কালভার্টগুলোর ওপর জরাজীর্ণ কাঠের স্লিপারের সঙ্গে পেরেক দিয়ে বাঁশের ফালি স্থাপন করা হয়েছে অনেক জায়গায়। এর উদ্দেশ্য স্লিপারগুলো ধরে রাখা। কিন্তু সামান্য চাপেই বাঁশের ফালি ভেঙে যাওয়ার কথা। এই রেলপথের ভাটেরা থেকে মোগলা বাজার রেলস্টেশন পর্যন্ত কয়েক হাজার ক্লিপ-হুক গায়েব হয়ে গেছে। দেখা গেছে, কোনো কোনো জায়গায় তার দিয়ে রেললাইনের জয়েন্টে নাট বেঁধে রাখা হয়েছে। রেলপথ থেকে প্রতিনিয়ত এসব যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। রেলপথের এই অংশের কোনো কোনো স্থানে একসঙ্গে সাত-আটটি হুকবিহীন অবস্থায় লাইন পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় রেল কর্তৃপক্ষের মোটর ট্রলি করে লাইন পরীক্ষা বা নজরদারি কার্যক্রম করতেন রেলওয়ের কর্মচারীরা। এখন এই নজরদারি করা হয় না।

এদিকে কুশিয়ারা নদীর উপর শত বছরের পুরনো ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুর উভয় পার্শ্বে সতর্কতামূলক সর্বোচ্চ গতিবেগের সাইনবোর্ড থাকলেও গতি নিয়ন্ত্রণ না করার অভিযোগ আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর চালকদের বিরুদ্ধে। ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই রেল সেতুর মধ্যভাগে সেফটি পিঞ্জিরা থাকলেও বাজারের উপরিভাগ ও অপর প্রান্তে কোনো সেফটি পিঞ্জিরা নেই। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুতে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনায় পতিত হলে এর ভয়াবহতা অকল্পনীয় হবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।

রেল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ওই সেতুর উপর দিয়ে আন্তঃনগর ও লোকাল ১৬টি ট্রেন চলাচল করে। সূত্রটি আরো জানায়, ২০০৯ সালে সেতুর পিলারে ফাটল দেখা দিলে ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রেখে ওই সময় সেতুর পিলার মেরামত করা হয়। ওই বছরের ২৬ অক্টোবর জরুরিভিত্তিতে সেতুর আংশিক মেরামত করা হয়। বৃটিশ প্রযুক্তিতে নির্মিত ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর স্থায়ীত্বের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ যাওয়ায় সঙ্গত কারণেই এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ ও বৃহত্তম এই সেতুর সংস্কার নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। ফেঞ্চুগঞ্জ সেতুর ব্যাপারে বর্তমান সার্বিক কর্তৃপক্ষীয় সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা জানা যায়নি। এছাড়াও রেলসেতুর অনেক কাঠের স্লিপার পচে গেছে।

এ ব্যাপারে সিলেট রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.