Sylhet Today 24 PRINT

ছাতকে বিদ্রোহের আগুনে পুড়ছে আওয়ামী লীগ

১০ ইউনিয়নে নির্বাচন

সদরুল আমিন, ছাতক |  ১০ নভেম্বর, ২০২১

প্রচার-প্রচারনা শেষে নিজেদের ভোটের পাল্লা ভারী করতে বিভিন্ন কৌশলে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ছাতকের ১০ ইউনিয়নের চেয়ারমান প্রার্থীরা। এখানের প্রতিটি ইউনিয়নেই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখেছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তবে সর্ব ক্ষেত্রেই মুল প্রতিদ্বান্দ্বিতায় রয়েছেন নৌকার প্রার্থীরা। বিদ্রোহীদের কারনে আবার বেশ কটি ইউনিয়নে নৌকার ভরাডুবির সম্ভাবনাও দেখছেন তারা।

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি ও জামাত নির্বাচনে প্রদ্বিন্দ্বিতায় না আসলেও প্রায় সিংহভাগ ইউনিয়নে বিএনপি, জামাত ও অন্যান্য দলের সমর্থিত প্রার্থী রয়েছেন। এ নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থী দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করার প্রত্যাশায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। যারা নৌকার মনোনয়ন চেয়েও পাননি, তাদের অনেকেই দলীয় প্রার্থীর গলার কাটায় পরিনত হয়েছেন বলে সাধারন ভোটাররা মনে করছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮ থেকে ছাতকের ১০টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহন শুরু হবে।

২য় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এখানের ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে সিংহভাগই সরকার দলীয়। অনেকেই দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

ছাতক সদর ইউনিয়নে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বিগত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ বছর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন তিনি। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রঞ্জন কুমার দাসের সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম। এ ইউনিয়নে হাড্ডাহাড্ডি লাড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও ভোটাররা বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকেই এগিয়ে রেখেছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আছাদ আহমদ টিটুও রয়েছেন আলোচনায়।

খুরমা উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদকে সাধারন ভোটাররা এগিয়ে রাখলেও, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামসুল ইসলাম খান ও বিদ্রোহী প্রার্থী এড. মনির উদ্দিনের মধ্যে ত্রি-মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে ফলাফল নিশ্চিত হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ইসলামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে ত্রি-মূখী। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান হেকিম, সাবেক চেয়ারম্যান এড. সুফি আলম সোহেল (জামাত), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আকিক হুসাইনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা দেখছেন এলাকার ভোটাররা। এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের একটি বড় অংশ সাথে থাকায় মাওলানা আকিক হুসাইনকেই এগিয়ের রেখেছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল ইসলামও রয়েছেন নির্বাচনী আলোচনায়।

কালারুকা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান অদুদ আলমের সাথে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী  আশরাফুল আলম। নির্বাচনী ফলাফল এ দু’প্রার্থীর মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন এলাকার সাধারন ভোটাররা। তবে স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী শেখ সেলিম আরাফাত মিয়া একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৬ জন প্রার্থী। এখানেও লড়াই হবে ত্রি-মূখী। আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদের সাথে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ন হয়েছেন নানু মিয়া (বিএনপি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। তবে ফলাফল গয়াছ আহমদ ও নানু মিয়ার পক্ষে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই জুড়ালো।

দোলারবাজার ইউনিয়নে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে লড়াই হবে ত্রি-মূখী। আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়ার সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন, নুরুল আলম (বিএনপি) ও বিদ্রোহী প্রার্থী আমির উদ্দিন। এখানে বিদ্রোহীর আগুনে নৌকার ভরাডুবির আশঙ্কা করছেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেনও রয়েছে আলোচনায়।

৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চরমহল্লা ইউনিয়নে। বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত (বিএনপি) এর সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কদর মিয়া। এ ইউনিয়নের সাধারন ভোটাররা বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাসনাতকেই রেখেছেন এগিয়ে।
খুরমা দক্ষিন ইউনিয়নে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মছব্বির এবং ৩ বিদ্রোহীসহ ৬ প্রার্থী রয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সাধারন ভোটারদের মতে এ ইউনিয়নে লড়াই হবে ত্রি-মূখী।  আওয়ামীলীগ প্রার্থী আব্দুল মছব্বিরের সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কাশেম হাসান। এ ছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল খালিক ও জয়নাল আবেদীনও রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে।

গোবিন্দগঞ্জ-ছৈদেরগাও ইউনিয়নে ৩ প্রার্থীই সমানে-সমান। আওয়ামীলীগ প্রার্থীর সাথে দু’ বিদ্রোহী প্রার্থীর লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন এ প্রতিক্ষায়ই রয়েছেন এ ইউনিয়নের সাধারন মানুষ। বর্তমান চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বিগত নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ বছর দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন তিনি। বিগত নির্বাচনের মতই এ বছরও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পান সাবেক চেয়ারম্যান সুন্দর আলী। এ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়েছেন। সাধারন ভোটাদের মতে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনায় কিছুটা এগিয়ে আছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান।

উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জাউয়াবাজার ইউনিয়নে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে এ ইউনিয়নে লড়াই হবে চতুর্মুখী। বর্তমান চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন এ বছরও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বিগত নির্বাচনের মতই এ বছরও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নুরুল ইসলাম। এ ইউনিয়নেও দু’বিদ্রোহীর আগুনে পুড়ছেন নৌকার প্রার্থী। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রেজা মিয়া তালুকদার ও বর্তমান মেম্বার আব্দুল হক রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ ইউনিয়নের ভোটারদের মতে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মুরাদ হোসেন, বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেম্বার আব্দুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আফরোজ আলীর মধ্যেই ফলাফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া আল আমিন (বিএনপি), স্বতন্ত্র প্রার্থী আসাদুল হক মঞ্জু, ফারুক আহমদ, আছাদুর রহমান, লায়েক আহমদ ও সুবেদ আহমদ রাজন রয়েছেন আলোচনায়।

আগামী ১১ নভেম্বর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.