নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ নভেম্বর, ২০২১
বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির কারণে বিপাকে পড়েছেন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ১৪৮ শিক্ষার্থী। স্নাতক সম্পন্ন করেও বার কাউন্সিলে তালিকাভূক্তির জন্য আবেদন করতে পারছেন না।
অতিরিক্ত ছাত্র ভর্তির কারণে উচ্চ আদালত থেকে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে জরিমানা করা হয়। এই জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় শিক্ষার্থীদের তালিকাভূক্তির আবেদন গ্রহণ করছে না বার কাউন্সিল।
এদিকে, সোমবারের মধ্যে হাইকোর্ট নির্দেশিত জরিমানার টাকা পরিশোধের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সময় বেঁধে দিয়েছে ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন তারা। রোববার (২১ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সময়সীমা বেঁধের দেয়ার কথা জানান সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২১, ২২, ২৩ এবং ২৪ তম ব্যাচের আইনবিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইন বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থী ভর্তি করান। এজন্য বার কাউন্সিল শিক্ষার্থীদের ইন্টিমেশন জমা নিচ্ছে না। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য প্রায় ৮ মাস আগে ১৪৮ জন শিক্ষার্থীর পক্ষে হাইকোর্টে দুটি রিট (৫০৯১ ও ৫৩৭০) দাখিল করা হয়। দুটি রিটের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট ৮ সপ্তাহে মোট ছয়টি কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার সময় দেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত জরিমানার টাকা পরিশোধের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই গত ১৮ নভেম্বর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা সুনির্দিষ্ট কোন সমাধানের পথ না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সমস্যা নিরসনের জন্য আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেই। সোমবারের মধ্যে যদি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আশানুরূপ কোন সমস্যা সমাধান না দেন তাহলে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরুদ্ধ করবো ক্যাম্পাসে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত শনিবার (২০ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইজে কর্তৃপক্ষ এ ব্যপারে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের ভাল চায় এবং আমাদের ভবিষ্যত যেন সুন্দর হয় তারই প্রেক্ষিতে উনারা সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। আমাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিপরীতে আপিল করেছে। যদি আপিলে রায় আমাদের পক্ষে আসে তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রকার জরিমানা দেওয়া লাগবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া এমন পোস্টের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করেছেন, রায় যদি আমাদের পক্ষে না আসে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কি ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা দিবে। যেখানে জরিমানার টাকা দেওয়ার শেষ তারিখ হচ্ছে আগামী ২ জানুয়ারি ২০২২। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিলের শুনানি আগামী মাসের ডিসেম্বরের ১২ তারিখ। রায় বিপরীতে চলে গেলে পরবর্তী অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় অথরিটি ২৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য কি প্রস্তুত আছে?