এস আলম সুমন, কুলাউড়া:

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০২:৫৮

কারা হাসবেন শেষ হাসি, অপেক্ষা আর উৎকন্ঠায় প্রার্থীরা

কুলাউড়া ইউপি নির্বাচন

আজ রোববার কুলাউড়ার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন চেয়ারম্যান পদের ৫৬ জন প্রার্থীসহ সাধারণ ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা। প্রচার প্রচারণা শেষে এখন প্রহর গুণছেন ভোটারদের রায়ের।

কারা হচ্ছেন বিজয়ী এ নিয়ে প্রার্থী, সমর্থক ও ভোটারদের মধ্যে চলছে জল্পনা কল্পনা। ভোট নিয়ে ভোটার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শঙ্কা থাকলেও নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন।

সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয় ভোটার, প্রার্থী ও সমর্থকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, নির্বাচনে বিদ্রোহী ও বিএনপি ঘরোনার বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ১৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হোন। বাকি ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী এবং বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছিলেন।

চলতি নির্বাচনে প্রবীণ ও নবীন মিশেলে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হয়েছে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য। সরকার দলীয় প্রার্থী হয়েও বিদ্রোহী আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পাশ কাটিয়ে কতটি ইউনিয়নে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারেন সেটি এখন দেখার বিষয়।

উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী খোরশেদ আলম খান সুইট এবং আওয়ামী লীগের দলীয় নবীন প্রার্থী আবুল হোসেন খসরু এই দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে বিএনপি ঘরোনার ও অন্যান্য দলের কোন প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম খান সুইট বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

ভূকশিমইল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির স্বতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী মইনুল ইসলাম সোহাগ ও জাতীয় পার্টির আব্দুল আজিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আজিজুর রহমান মনির ও নৌকার মইনুল ইসলাম সোহাগের মধ্যে। গত নির্বাচনে হাওর অধ্যুষিত এই ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি প্রবীণ রাজনীতিবিদ রফিকুল ইসলাম রেনুকে পরাজিত করে বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান মনির বিজয়ী হয়েছিলেন। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী মইনুল ইসলাম সোহাগ বিজয় ছিনিয়ে আনতে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

ভাটেরা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জুবায়ের সিদ্দিকি সেলিম, বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী সৈয়দ একে এম নজরুল ইসলাম, কামাল ইবনে শহীদ চৌধুরী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আব্দুল লতিফ খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হোন সৈয়দ একে এম নজরুল ইসলাম। এবারের নির্বাচনে জুবায়ের সিদ্দিকি সেলিমসহ দলের মনোনয়ন চান একে এম নজরুল ইসলাম, কামাল ইবনে শহীদ চৌধুরী। কে এম নজরুল ইসলাম, কামাল ইবনে শহীদ চৌধুরী বঞ্চিত হোন। এই ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে জুবায়ের সিদ্দিকি সেলিম ও একে এম নজরুল ইসলামের মধ্যে।

জয়চন্ডী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন আহমদ কমরু স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সভাপতি আব্দুর রব মাহবুব। দুইজনের মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাডি।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. মমদুদ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী খান ময়নুল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন এলাইছ ও আকুল মিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মমদুদ হোসেন প্রথম দিকে এগিয়ে থাকলেও শেষ সময়ে এসে নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরী করেছেন খান ময়নুল হোসেন। এই দুইজনের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাডি।

কাদিপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত জাফর আহমদ গিলমান ও গতবারের ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান ছালাম এবং বিএনপি ঘরোনার আব্দুল মুহিত বাবলুসহ মোট ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের মধ্যে এই ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তুমুল। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জাফর আহমদ গিলমান ও হাবিবুর রহমান ছালাম এগিয়ে রয়েছেন। তবে তাদের জয় পরাজয়ে ফ্যাক্ট হতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মুহিত বাবলু।

কুলাউড়া সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নবীন প্রার্থী মোছাদ্দিক আহমন নোমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নার্গিস আক্তার বুবলী ও জুবের আহমদ খানসহ ৪জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে স্বতন্ত্র নার্গিস আক্তার বুবলী ও জুবের আহমদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

রাউৎগাঁও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের আকবর আলী সোহাগ ও বিএনপি ঘরোনার স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামালসহ ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আকবর আলী সোহাগ ও আব্দুল জলিল জামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

টিলাগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আব্দুল মালিক ও দলীয় বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল মালিকসহ ৫জন। মূল লড়াই হবে মো. আব্দুল মালিক ও আব্দুল মালিকের মধ্যে।

হাজিপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওয়াদুদ বক্স, বিএনপি ঘরোনার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদ আলী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চুসহ ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াইয়ে বেশ এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহমুদ আলী ও আব্দুল বাছিত বাচ্চু।

শরীফপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. চিনু মিয়া ও বিএনপি ঘরোনার স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব আলী এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খলিলুর রহমানসহ ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনতে অনেকটা বেগ পেতে হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে।

পৃথিমপাশায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মন্নাফ, স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন, মো. আব্দুল লতিফসহ ৫জন। এখানে নবাব আলী বাকর খান হাসনাইন, মো. আব্দুল লতিফের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

কর্মধায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম এ রহমান আতিক ও দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মুহিবুল ইসলাম আজাদসহ ৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াইয়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন মুহিবুল ইসলাম আজাদ।

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে ৫জন জুডিশিয়াল ও ৫জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়াও স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ সহস্রাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত