Sylhet Today 24 PRINT

শিল্প দূষণ বন্ধের দাবিতে মাধবপুরে বাপা’র জনসভা

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ০২ ডিসেম্বর, ২০১৫

 ‘একতিয়ারপুরের সকল শিল্প দূষণ বন্ধের দাবীতে’ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের একতিয়ারপুর বাজারে এক জনসভার আয়োজন করে।

বাপা হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাপা’র সহ-সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক জনাব শরীফ জামিল বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও বাপা হবিগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম জিনি, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সোয়েব চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী, বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কীম, বাপা হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম মনু ও মাওলানা মাহমুদ রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, "আমরা লক্ষ্য করেছি ক্রমাগত দূষণের ফলে এই এলাকার গ্রাম গুলিতে চরম পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। বিগত তিন বছর ধরে এই কার্যক্রম চলছে বলে আমরা জানতে পেরেছি, তাই তিন বছর পর এই এলাকায় এসেছি এটি আমাদের জন্য ব্যর্থতা। মার কেমিক্যাল ইন্ডস্ট্রিজ লিঃ গত তিন বছর যাবত নির্বিচারে এখানকার ২০ টি গ্রামে যেভাবে বিষ ঢেলে দিচ্ছে, তা গণ-হত্যার সামিল। তাই এদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়। তিনি বলেন, অবিলম্বে মার লিমিটেডসহ সকল শিল্পদূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করার পাশাপশি অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা সকল শিল্পায়ন বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মার লিমিটেডের শুধু দূষণ বন্ধ নয়, খালটিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া এবং ভূক্তভোগীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়াও নিশ্চিত করতে হবে। জীবন-প্রাণ ও প্রকৃতি সরাসরি আক্রান্ত করে কোন প্রকার উন্নয়ন বা কোন প্রকার কর্মকান্ড গ্রহণ যোগ্য নয়। "

শরীফ জামিল বলেন, "মার লিমিটেড এর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বাপা’র সভা হয়েছে। গতকালও প্রশাসনের একটি যৌথ সভায় মার লিমিটেড বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে, অথচ আজও আমরা  মার লিমিটেড এর দূষণের আলামত পাচ্ছি।  কাজেই শিল্প দূষণ বন্ধে সরকারতো সচেষ্ট নয়ই, বরং এক্ষেত্রে পুলিশের উপস্থিতিতে শিল্প দূষণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, কোন কোন কারখানা ভ’-গর্ভস্থ পানির স্তরে বর্জ্য নিষ্কাশনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা চলমান দূষণের চেয়েও ভয়াবহ। আমরা উন্নয়ন ও শিল্পায়ন চাই, তবে যে শিল্পায়ন ভবিষ্যতে ঢাকার চারনদী পূনরুদ্ধারের মত হাজার হাজার কোটি টাকার অভিসম্পাত ডেকে আনবে, সে উন্নয়ন আমরা চাই না, হতে দিতে পারি না।"

আব্দুল করিম কিম বলেন, এই দূষণ অল্প কিছু দূরে সরাসরি মেঘনা নদীতে গিয়ে পড়ছে, যা সুরমা নদী রক্ষায় সকল প্রয়াসকে অর্থহীন করে দিচ্ছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.