নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
‘আমাদের নিয়মিত ট্যাক্স দিতে হয়। অথচ ধর্মীয় নেতারা লক্ষ লক্ষ আয় করেন, কিন্তু তাদের ট্যাক্স দিতে হয় না। এই যেমন সিলেটের শাহজালাল (র.) দরগাহ, এই যেমন পীর-ফকির, তারা প্রচার টাকা আয় করেন। কিন্তু তাদের কেনো কর দিতে হয় না?’ -এমন প্রশ্ন করেন মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মুজিবুর রহমান।
আজ (শনিবার) বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত রাজস্ব সংলাপে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে তিনি এ প্রশ্ন রাখেন।
সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেট ও সিলেট কর অঞ্চল এই রাজস্ব সংলাপের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উন্নত সেবা প্রদানে অঙ্গিকারবদ্ধ। সকলের সহযোগীতা পেলে রাজস্ব বোর্ডে কোনো দুর্নীতি ও নৈতিকতাহীন কর্মকান্ড পরিচালতি হবে না। রাজস্ব বোর্ডের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বা হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটের কর কমিশনার মো. মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ রাজস্ব সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিলেট কাস্টমস, এক্সাসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট ড. একে এম নুরুজ্জামান।
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেটের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার এমডি আল-আমিন, মৌলভীবাজার বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল তরিকুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আব্বাস উদ্দিন, সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সালাউদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি হাছিন আহমদ, সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল প্রমুখ।
সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সেক্টরের ২১ জন ব্যবসায়ী ও করদাতা কর ও ভ্যাট প্রদান এবং ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রতিকবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন।
ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের ্েক্ষত্রে সুদের হার কমানো, সুতারকান্দি শুল্ক স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ স্থল বন্দরে উন্নীত, তামাবিল শুল্ক স্টেশনে ডাম্পিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থা করা, কর প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানিদূরীকরণ, চা আমদানিরক্ষেত্রে শুল্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান আরো বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীন সম্পদ আরোহন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমাদের দেশের শতকরা ৯০ ভাগ কর্মকান্ড অভ্যন্তরীন সম্পদ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। আগামীতে এর পরিমান আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, চলতি অর্থ বছরে কর আরোহনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে আমরা তা পুরণ করবোই করবো।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে করদাতারা কর প্রদানে আগ্রহী হন। আমরা সেই উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে তকাজ করছি।