সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাওর এলাকায় আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ঠিকাদাররা। সুনামগঞ্জ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়েছেন বলে সাংবাদিক সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন জেলা শহরের ঠিকাদাররা। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয় সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাজ না দেয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৮/১০ কোটি টাকা। অবশ্য পাউবো’র কর্মকতারা এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৬ জুলাই থেকে ১৪ আগস্ট দরপত্র জমা দেন ঠিকাদাররা। দরপত্র জমা দিলেও নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঠিকাদারদের কাগজপত্র যাচাই করেন ৩মাস পড়ে। দায়সাড়া ভাবে কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করা হয়। এসুযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোটি টাকার কমিশন নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকালে একই প্রকল্পের কাজ ১৯% থেকে ২৬% নিম্নদরে ঠিকাদারদের দিলেও সুনামগঞ্জের কাজ দিয়েছেন ১০% থেকে ২০% নিম্নদরে।
সূত্র মতে, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাওর এলাকায় আগাম বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন কাজের জন্য ৮৫টি গ্রুপে দরপত্র আহবান করে। প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্যের এ কাজে প্রতি গ্রুপেই গড়ে ২০/৩০ টি দরপত্র জমা দেন ঠিকাদাররা।
সাংবাদিক সম্মেলনে একাধিক ঠিকাদার জানান, একাধিক প্রভাবশালী ঠিকাদারদের ম্যানেজ করে, বিশেষ করে সরকারি দলের পরিচয় দিয়ে যারা সুবিধা নেবার চেষ্টা করেন তাঁদের ম্যানেজ করে বেশিরভাগ বাঁধের কাজ আগে কমিশন নিয়ে চট্ট্রগ্রাম ও ময়মনসিংহ অ লের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানানো হয়, গত বছর একই প্রকল্পের কাজ ২০% থেকে ৩১% নিম্নদরে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কিন্তু এ বছর এনালাইসেস মূল্যায়ন না করে নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক দাস ও উপ-বিভাগী প্রকৌশলী খলিলুর রহমানকে নিয়ে কমিশন বানিজ্য করেছেন। ৫ থেকে ১০ভাগ টাকা নিয়ে কাজ দিয়েছেন নিজস্ব ঠিকাদারদের। এছাড়াও নির্বাহী প্রকৌশলী অধিকাংশ সময় অফিস না করে ঢাকায় অবস্থান করেন বলে ঠিকাদাররা জানান।
এ অবস্থায় কমিশন নিয়ে কাজ দেয়ায় বাঁধের কাজের গুনগত মান খারাপ বলে হলে ঠিকাদাররা মনে করছেন। এতে করে এ বছর জেলার হাওরের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বোরো ধান অরক্ষিত থাকার আশংকা করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী আফছার উদ্দিনের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি রিসিভি করেননি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঠিকাদার খালেদ হাসান, আতিকুর রহমান, বিপ্রেস দাস, ভজন তালুকদার, মামুন চৌধুরী, সাজিদ আহমদ, দেবাশিষ দাস বাপ্পি, পার্থ সারথি পুরকায়স্থ, বশির অহমদ, তারেক আহমদ মাশরুর কবির আনাস, সানি বখত প্রমুখ।