Sylhet Today 24 PRINT

‘আলোচনা চাই, তবে অনশনও চলবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ২২ জানুয়ারী, ২০২২

অনশন ভেঙে আলোচনায় বসার জন্য সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের প্রতি ফের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

এই আহ্বানের জবাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা এক্ষুনি আলোচনায় বসতে চান। তবে আলোচনার পাশপাশি তাদের অনশনও চলবে।

শনিবার নিজের বাসভবনে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে আমাদের প্রতিনিধিদল শাবিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করতে প্রস্তুত।

শিক্ষামন্ত্রীর এই ব্রিফিংয়ের কিছুক্ষণ পর রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান প্রসঙ্গে বলেন, আমরা আলোচনায় প্রস্তুত। আজকে রাতে যদি সম্ভব হয়, যদি এই মূহূর্তেও সম্ভব হয় আমরা আলোচনা করতে চাই তাদের সাথে। হয় তারা প্রতিনিধি দল পাঠাক, বা অনলাইনে হোক আমরা দ্রুত আলোচনা করতে চাই। আমরা এই স্বৈরাচারি ভিসির পদত্যাগ চাই।

তিনি বলেন, আমাদের অনশনকারীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তবু তারা অনশন ভাঙছে না। তারা একদম সংকল্পবদ্ধ, ভিসির পদত্যাগ না করলে তারা অনশন ভাঙবে না।

রাজ বলেন, অলরেডি তিনদিন হয়ে গেছে। আমরা জানি না, কালকে তাদের অবস্থা কী হবে। আমরা নিজেরা চাইলেও, মানে ওদের সংকল্পটা এতো দৃঢ় যে, আমরাও তাদের ফিরিয়ে আনতে পারছি না। তাদের এই অবস্থা আমরা আর নিতে পারছি না। ফলৈ দ্রুত আমরা আলোচনায় বসতে চাই।

আলোচনার পাশাপাশি অনশনও চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের অনশন চলছে চলবে। দরকার হইলে আমরা সবাই অনশনে নেমে পড়বো।  উপাচার্যের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।

শনিবার রাত ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুল চত্বরে দাঁড়িয়ে প্রদীপ প্রজ্বলন করেন শিক্ষার্থীরা। এ কর্মসূচিতে অংশ নেন পাঁচর শতাধিক শিক্ষার্থী। এসময় চলমান আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন নির্যাতনের চিত্র তোলে ধরে একটি তথ্যচিত্র পরিবেশন করেন তারা।

তথ্যচিত্র পরিবেশনের পূর্বে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'শুরু থেকে আমাদের উপর মিথ্যাচার করা হচ্ছে। কতটুকু মিথ্যাচার করা হচ্ছে তার প্রামাণ হিসেবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শনী করব। এতেই বুঝা যাবে আমরা কতটা নির্যাতিত হয়েছি।'

৩ মিনিটের এ তথ্যচিত্রে শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ, সাউন্ট গ্রেনেড নিক্ষেপের চিত্র প্রদর্শন হয়।

উল্লেখ্য, উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে উত্তাল শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়। গত বুধবার দুপুর আড়াইটা থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরণ অনশনে নামেন শাবিপ্রবির ২৪ শিক্ষার্থী। এরমধ্যে একজনের বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি অনশন শুরুর পরের দিনই বাড়ি চলে যান। বাকি ২৩ অনশনকারীর মধ্যে এখন ১৬ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৬ জানুয়ারি বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে উপাচার্যকে মুক্ত করে পুলিশ। এরপর পুলিশ ৩০০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

উপচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শনিবার দুপুরে কাফনের কাপড় পরে ক্যম্পাসে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। আর সন্ধ্যায় তারা গণশনে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.