Sylhet Today 24 PRINT

শাবি উপাচার্যকে ‘মিথ্যা’ না বলার আহ্বান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

‘অবশ্যম্ভাবী পদচ্যুতির’ আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে ‘যত্রতত্র স্বভাবসুলভ মিথ্যা’ না বলার আহবান জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র মোহাইমিনুল বাশার রাজ সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এমন আহ্বান জানানো হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছেন শাবি শিক্ষার্থীরা। টানা ২৭ দিন আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে গত শনিবার কর্মসূচী স্থগিত করেন তারা। তবে এখনও স্বপদে বহাল আছেন উপাচার্য।
 
এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।

তিনি বলেন, অন্যায় আবদার করলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাথা নত করবে না, একজনও যদি ন্যায্য কথা বলে তাহলে আমরা গুরুত্ব দিয়ে এটা সমাধানের ব্যবস্থা করব। আমরা ন্যায় এবং সত্যের পথে থাকব। আপনারা দেখতে পেয়েছেন সত্য এবং ন্যায় আজকে বিজয়ী হয়েছে, টিকে আছে। মিথ্যা আজকে পরাভূত হয়েছে।

উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের দ্বারা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষিত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ যদি ভেবে থাকেন যে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবেন তবে বিরাট ভুল করছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবির ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন সুস্পষ্ট আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করেছে বলে কিছুদিন আগে শিক্ষার্থীদের দ্বারা ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষিত উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ যদি ভেবে থাকেন যে তিনি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারবেন তবে বিরাট ভুল করছেন। সমস্ত বাধা-বিপত্তি, ভয়ডর উপেক্ষা করে শাবি শিক্ষার্থীরা প্রায় ১ মাসব্যাপী অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে অভূতপূর্ব আন্দোলন চালিয়েছে তার যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা ও নৈতিক ভিত্তি কিছু দালাল ও চাটুকার ব্যতিত সারা দেশে সর্বজনস্বীকৃত।

বিবৃতিতে রাজ বলেন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদ তার মিথ্যাচারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন। ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে আমরা বলতে চাই, শাবি শিক্ষার্থীদের সাথে সাথে গোটা জাতির কাছে সত্য হচ্ছে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের উপর বিনা উস্কানিতে আপনার নির্দেশে পুলিশের নিষ্ঠুর হামলা, অসংখ্য আহত শিক্ষার্থীর আর্তনাদ, আমাদের সতীর্থ সজল কুন্ডুর শরীরের ৮০টিরও বেশি স্প্লিন্টার, ২৮টি ছেলেমেয়ের মরণপণ অনশন। আপনার তো পদত্যাগ করার সৎসাহসও নেই। তাই এখন অবশ্যম্ভাবী পদচ্যুতির আগে যত্রতত্র আপনার স্বভাবসুলভ মিথ্যার পসরা সাজিয়ে বসবেন না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৬ জানুয়ারি পুলিশী হামলার ১ মাস পূর্তিতে শাবি শিক্ষার্থীরা মহামান্য আচার্যকে অবিলম্বে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য আহবান জানাচ্ছে। একইসাথে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নির্লজ্জ মিথ্যাচার ও মনগড়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করছে।

এতে বলা হয়, ঠিক একমাস আগে এইদিনে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের উপর রাবার বুলেট, শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড সহযোগে এ হামলায় মারাত্মক আহত হয় অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী। শটগানের ধাতব শ্রাপনেল, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে এখনো চিকিৎসাধীন আমাদের বহু সহযোদ্ধা। ওই নারকীয় ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শাবির ইতিহাসে নজিরবিহীন এই ঘটনার মূল কুশীলব উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ভয়াল ১৬ জানুয়ারির ১ মাস পূর্তিতে আমরা শাবি শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আমরা কিছুই ভুলিনি। আমাদের সমস্ত দাবির ব্যাপারে অতিশিগগরিই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে- শিক্ষামন্ত্রীর এমন ঘোষণায় আমরা আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। কিন্তু আমাদের শরীরে লাঠি, বুলেট, বোমার সকল আঘাত, জখম, ঝরা রক্ত আমাদের মনে অক্ষয় শক্তির যোগান দিয়ে অঙ্গার হয়ে জ্বলছে। ফরিদদের পতন না হলে এই অঙ্গার অপ্রতিরোধ্য দাবানলে পরিণত হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।  ১৬ জানুয়ারি বিকেল কার্যলয় থেকে বের হওয়ার পর আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুন্নেসা হলের প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ওইদিন শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে উপচার্যকে মুক্ত করে বাসায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর সিন্ডিকেট সভা ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন উপাচার্য। ওই রাত থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

১৭ জানুয়ারি থেকে উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ১৯ জানুয়ারি থেকে সেখানে অনশনে বসেন ২৪ শিক্ষার্থী। এরপর উপাচার্যের বাসার সামনের ফটকে ব্যারিকেড দিয়ে ভেতরে কারো প্রবেশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। একদিনের জন্য বিদ্যুত সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন তারা। উপাচার্যের কার্যালয়েও তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

২৬ জানুয়ারি অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙেন। ওইদিনই উপাচার্যের বাসার সামনের ব্যারিকেড তুলে নেন তারা। তবে এরপরও বাসায়ই ছিলেম উপাচার্য।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী ডা দিপু মনি ক্যাম্পাসে আসলে ওইদিন ২৬ দিন পর বাসা থেকে বের হয়ে কার্যালয়ে এসে মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেন উপাচার্য।

ওই বৈঠকে উপাচার্যকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী।

এদিকে, শিক্ষকদের সাথে বৈঠকের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী। এতে উপাচার্যের বিষয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি আচার্যকে অবহিত করার আশ্বাস দেন দিপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে শনিবার দুপুরে ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন উপাচার্য।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.