জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, তাহিরপুর | ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও স্থায়ী ভাবে আজও তৈরি করা হয়নি তাহিরপুর উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ঐসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটিতে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ও শুধু আলোচনা সভা বা মিলাদ মাহফিল করেই দিবসটি পালন করা হয়। তাছাড়া অন্যরা দিনটি শুধুমাত্র সরকারী ছুটি হিসেবেই পালন করে থাকেন।
আর হাওরাঞ্চলে সঠিক ভাবে প্রচার,প্রচারণা ও শহীদ মিনার না থাকায় কোমল মতি শিশু শিক্ষার্থী বুজে উঠতে পারে না জাতীয় এ দিবস সম্পর্কে। ফলে পাঠ্য বইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে তাদের দাবী করেন অভিভাবক ও উপজেলার সচেতন মহলের।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় স‚ত্রে জানা গেছে,উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় স‚ত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক,২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,২টি কলেজ ও ২টি মাদ্রাসা আছে। কোনো মাদ্রাসাতেও শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এর মধ্যে ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। অবশিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আজো শহীদ মিনার গড়ে ওঠেনি। এর মধ্যে বাদাঘাট,জনতা,বীরেন্দ্রনগর,ট্যাকেরঘাট,বালিজুরী আনোয়ারপুরসহ ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলেও সেগুলোও আছে জরাঝীর্ণ অবস্থায়।
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি জাহান জানান,তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পাটাবুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মকসুদ মিয়া জানায়,২১শে ফেব্রুয়ারির জন্য ঐ দিন তার বিদ্যালয় বন্ধ থাকে,এর বাহিরে সে কিছুই জানে না। শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানায় সে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সোহালা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম সারোয়ার লিটন বলেন,অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় শহীদ দিবসে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেনা শিক্ষার্থীরা। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ, সেই সাথে দিবসটি বিদ্যালয়ে পালন করা জরুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির জানান,আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাঙ্গালী জাতির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি স্কুলেই ভাষা শহীদের সম্মানে শহীদ মিনার স্থাপন করে দিবসটি পালনের জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন-ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণীয় করে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করা খুবেই প্রয়োজন। এই বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলব।