Sylhet Today 24 PRINT

চুরির অভিযোগে থানায় নেওয়া হয় উজিরকে, ‘নির্যাতনে’ মৃত্যু

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ |  ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মারা যাওয়া উজির মিয়া (৪০) কে চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।

উজির উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের শত্রুমর্দন (বাঘেরকোনা) গ্রামের মৃত কাঁচা মিয়ার ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। পেশায় তিনি একজন কৃষক ছিলেন। এ ঘটনায় সোমবার বেলা ২টা থেকে নিহতের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা মিলে মরদেহ নিয়ে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয়পাশে সহস্রাধিক ছোটবড় যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজটের তৈরি।

অবরোধ চলাকালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার উজ্ জামান সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র স্টিকার সংম্বলিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষোভকারীরা তার উপর চড়াও হন। এসময় রাস্তায় শুইয়ে রাখা লাশের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ইউএনও। এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীরা আরও বিক্ষু্ব্ধ হয়ে উঠেন এবং অবরোধ চালিয়ে যেতে থাকেন। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিলে প্রায় ৪ ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারীরা।

নিহতের পরিবারে একাধিক সদস্য জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের শান্তিগঞ্জ থানার এস আই দেবাশীষ, এস আই পার্ডন কুমার সিংহ ও এএসআই আক্তারুজ্জান চুরির অভিযোগ এনে উজির মিয়াকে তার বাড়ি থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নির্যাতন করা হয় উজির মিয়াকে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। পরে তাকে কোর্টে চালান করা হয়। সেখান থেকে জামিনে ছাড়িয়ে আনার পর তার গায়ে, মাথায়, মুখে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

ওই রাতেই (১০ ফেব্রুয়ারি) তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।

স্বজনরা জানান, নিহত উজির মিয়াকে সিলেটে পাঠানোর আগে পুরো ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করতে রাতেই তার বাড়িতে যান থানার দায়িত্বে থাকা ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান ও সেকেন্ড অফিসার এসআই আলা উদ্দিন। দুঃখ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে আসেন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজি মুক্তাদির হোসেন ছুটি থেকে আসলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়ে আসেন।

সে ঘটনার ১০দিন অতিবাহিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে অবস্থার অবনতি হয় উজির মিয়ার। সাথে সাথে কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ছোট ভাই ডালিম মিয়া বলেন, আমার ভাই নির্দোষ। চুরির কোনো ঘটনা কো দূরে থাক্ সামান্য বিষয় নিয়েও কোনো বিচার আমার ভাইয়ের কেউ করেনি। পুলিশ ধরে নিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাকে টর্চার করে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি খুনিদের ফাঁসি চাই।

নিহতের ছোট বোন শিপা বেগম বলেন, আমার ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে ফেলেছে এসআই দেবাশীষ, এসআই পার্ডন ও এএসআই আক্তারুজ্জান। আমরা তাদের বিচার চাই। তাদের ফাঁসি চাই।

অপর ছোটভাই ইমন মিয়া বলেন, বিক্ষোভ চলাকালীন সময় রাস্তায় শুয়ে রাখা নিথর দেহের উপর দিয়ে নৃশংসভাবে গাড়ি চালিয়ে যায় ইউএনও। একটা মকনুষকে কয়বার হত্যা করা যায়? মৃত লাশকেও আবার গাড়ি চাপা দেওয়া হয়েছে। কী দোষ করেছে আমার এ হতভাগ্য ভাই? এর বিচার চাই।

এ ঘটনায় ইউএনও মো. আনোয়ার উজ্ জামানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার আলিম বলেন, আসলে ইচ্ছা করে কেউ লাশের ওপর দিয়ে চালিয়ে যেতে পারে না। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত হোক এবং যদি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাইদ বলেন, আমরা পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় আনবো। কেউ দোষ করে থাকলে দোষীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। আপনার আমাদের উপর আস্থা রাখেন। দ্রুতই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.