Sylhet Today 24 PRINT

প্রশ্নপত্রে চা শ্রমিকদের ‘কুলি’ আখ্যা, ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার |  ০৪ মার্চ, ২০২২



প্রশ্নপত্রে কুলি শব্দ ব্যবহার করায় তৈরী হয়েছে ক্ষোভ৷ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এই প্রশ্নপত্র বাতিল ও প্রশ্নপত্র প্রনয়নের জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তারা আন্দোলনে নামার ঘোষনাও দিয়েছেন৷

শুক্রবার (৪ মার্চ) সকালে বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ডের অধীনে অফিস সহকারী/সার্টিফিকেট সহকারী/ক্রেডিট চেকিং ও নাজির পদের জন্য এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়৷ ১৬তম গ্রেডে ২২টি পদের জন্য এই নিয়োগ পরীক্ষা মৌলভীবাজারে কয়েকটি কেন্দ্রে নেয়া হয়৷

লিখিত এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ৬নং প্রশ্নে বাংলা থেকে ইংরেজীতে অনুবাদ করতে দেয়া হয়। সেখানে প্রশ্নপত্রে উল্লেখ ছিলো- "শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়৷ শ্রীমঙ্গলে ৯২টি চা বাগান রয়েছে৷ শ্রীমঙ্গলের চা খুবই উপাদেয়৷ কুলিরা হাত দিয়ে চা পাতা সংগ্রহ করে৷ প্রক্রিয়াজাত চা পাতা থেকে চা উৎপন্ন করা হয়৷''

চা শ্রমিকদেরকে "কুলি" সম্বোধন করে প্রশ্নপত্র প্রনয়ন করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পরীক্ষার্থীরা৷

পরীক্ষার্থী শাওন শীল জানান, সকালে পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রশ্নপত্রটি হাতে পাওয়ার পর আমি অবাক হয়ে যাই! আমি নিজেও একজন চা শ্রমিকের সন্তান, এইরকম প্রশ্নে আমি অপমানিত বোধ করছি৷ আমাদের চা শ্রমিকদের সবসময় সব জায়গায় ছোট করে দেখার যে প্রবনতা তৈরী হয়েছে সেটি আজ আবারও প্রমাণিত হলো৷

পরীক্ষার্থী রাজপাল বিপুল বলেন, সরকারি একটি লিখিত পরীক্ষার চা শ্রমিকদের "কুলি" বলে সম্বোধন করা হয়েছে, যা শুধু অপমানজনকই নয় উপরন্তু চা শ্রমিকদের প্রতি প্রশাসনের "নিচু মন-মানসিকতা"র পরিচায়কও। চা বাগান এই স্বাধীন বাংলার শিল্পের চাকাকে সচল রেখেছে আজ দুশো বছরেরো অধিক সময় ধরে।আর এই শিল্পে কাজ করছে লক্ষাধিক শ্রমিক। শ্রমিকরা শ্রমিক হয়, সে যেই শিল্পেই হোক। কিন্তু তাদের কুলি বলার অধিকার কারোর নেই।অন্তত এই সভ্য যুগে যখন মানুষ সভ্যতা শিখছে তখন আজ এরকম ব্যবহার সত্যিই ন্যাক্কারজনক।

প্রশ্নেপত্রে 'কুলি' শব্দ ব্যাজবহারে ক্ষোভ জানিয়ে সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলন সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম কিম বলেন, চা শ্রমিক সমৃদ্ধ মৌলভীবাজার জেলার প্রশাসনিক পরিক্ষার প্রশ্নপত্র দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছি। শ্রমিকদের অবজ্ঞা করে সামন্তবাদী বাগান ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেছিল বৃটিশেরা। সেই মনোভাব এখনো অনেকে ধারণ করেন। এই প্রশ্ন প্রত্যাহার ও শ্রমিকদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করতে হবে প্রশাসনকে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক নিপেন পাল সিলেটটুডে কে বলেন, আমি এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই পাশাপাশি এই প্রশ্নপত্র প্রনয়নের সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তার শাস্তি দাবী করছি৷ এই বিষয় নিয়ে আমরা আগামীকাল দেশের সকল চা শ্রমিকদের প্রতিনিধি নিয়ে বসে পরবর্তী কর্মসূচী নির্ধারন করবো৷

জানতে চাইলে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও বিভাগীয় নির্বাচনী বোর্ডের সদস্য সচিব সুনজিত কুমার চন্দ সিলেটটুডে কে বলেন, আমি সদস্যসচিব হলেও প্রশ্নপত্র আমি তৈরী করি না এবং প্রশ্ন কাকে দিয়ে করা হয়েছে সেটাও আমি জানি না৷

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.