Sylhet Today 24 PRINT

অবশেষে শঙ্কা নিয়েই শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা

দুই দফায় পিছিয়ে পড়ে অবশেষে শুক্রবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষা। এবার সিলেট বোর্ডের ইতিহাসে সর্বাধিক সংখ্যক ৮১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭২ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থী এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।

মারূফ অমিত  |  ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বিরোধী জোটের ডাকা লাগাতার অবরোধ এবং হরতালের কারণে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে প্রথম দফায় পরীক্ষা পিছিয়ে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সময়সূচি পরিবর্তন করে পরবর্তী পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয় বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিনও হরতাল ডাকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ফলে দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়ে পরিবর্তিত সময় নির্ধারণ করা হয় শুক্রবার। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের মাধ্যমেই সেদিন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসছে শঙ্কিত লাখো শিক্ষার্থীরা।

গত সোমবারের বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেয়া হবে আগামী শনিবার। আর বুধবারের বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেয়া হবে আগামীকাল সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

যদিও নানা নাটকীয়তার পর কাল থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা তারপরও কী নিশ্চয়তা মিলছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে? শিক্ষামন্ত্রী ওদিকে ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলমান অবরোধের মধ্যেই পরীক্ষা নেয়া হবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে উভয় সঙ্কটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা, অপরদিকে তাদের অভিভাবকরা। একদিকে রাস্তায় বের হলেই পিছু নিচ্ছে পেট্রোলবোমা হামলা, ঠিকানা হচ্ছে হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, আবার পরিবহণে থাকছেনা কোন নির্দিষ্ট সময়সীমার বালাই। পেট্রোলবোমা-ককটেল,অবরোধ-হরতাল উপেক্ষা করে কতটুকু নিরাপত্তার সহিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে উপস্থিত থাকতে পারবে সেটাই দেখার বিষয়।

তবে পরীক্ষার্থীরা এইটুকু আশ্বস্ত হতে পারে যে, সরকারের প্রশাসন এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে তাদের। পরীক্ষার হলের সামনে থেকে তারা নাশকতা দমন করবে। প্রশাসন বলছে তারা ব্যক্তিগত এবং দলীয়ভাবে সবরকম নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।

অবরোধে পরীক্ষা চলবে কিন্তু হরতালে পিছাবে শিক্ষামন্ত্রী এমন ঘোষণা ইতিপূর্বেই দিয়ে রেখেছেন। আর তাই বিগত কয়েকদিন অবরোধের মধ্যেই হরতাল থাকায় পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবারকেই নিরাপদ হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে পরীক্ষা নেয়ার জন্য। কিন্তু মন্ত্রীকে এও মনে রাখতে হবে যে, বিরোধী জোটের নেতারাও ঘোষণা দিয়েছে রেখেছে যে প্রয়োজন হলে শুক্র-শনিবারেও হরতাল দেয়া হবে। যদি সত্য করেই তারা সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর ন্যায় শুক্র-শনিবারও হরতাল ডাকে তাহলে কী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে? নাকি সরকারি-বিরোধী জোটের সংলাপ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষার প্রস্তুতি আরও দীর্ঘায়িত করতে হবে? অবশ্য সেটা যদি আমলে নেন ক্ষমতায় থাকা আর না থাকা দলগুলো।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বোর্ডে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৪ হাজার ১৪৫ জন। ৭২ হাজার ২৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২ হাজার ৪৬১ জন ছাত্র ও ৩৯ হাজার ৭৬৯ জন ছাত্রী। এবার ছাত্রের চেয়ে ছাত্রী সংখ্যা ৭ হাজার ৩০৮ জন বেশি। গতবারও ছাত্রী সংখ্যা বেশি ছিলো ৭ হাজার ৭৩৭ জন। জেলাওয়ারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সিলেট জেলায়। এ জেলায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৭ হাজার ১২০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১২ হাজার ৩১৪ ও ছাত্রী ১৪ হাজার ৮০৬ জন। সুনামগঞ্জে মোট ১৪ হাজার ৯৭০জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ২০ জন ও ছাত্রী ৭ হাজার ৯৫০ জন। মৌলভীবাজার জেলায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৫৭ ও ছাত্রী ৯ হাজার ৪৮৩ জন। সর্বনিম্ন পরীক্ষার্থী হবিগঞ্জ জেলায় ১৩ হাজার ৬০০ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৭০ জন ছাত্র ও ৭ হাজার ৫৩০ জন ছাত্রী। শিক্ষার্থীরা নানা প্রশ্ন নিয়ে এবারের পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, শুক্র এবং শনিবার সিলেট বিভাগে হরতালের ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.