নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৫
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরসলভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এককালে ‘কলেরা’ মহামারি আকার ধারণ করলেও এখন আর নেই। আগামী প্রজন্ম এটি ডিকশনারিতে (অভিধান) খুঁজে পাবে না।
তিনি আজ বুধবার সিলেট সদর উপজেলা ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের লক্ষ্য জনসেবা। এদেশের পশ্চাৎপদ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সফলও হয়েছেন। যা অন্য কোন সরকারের পক্ষে সম্ভব হয় না।
তিনি আরও বলেন, এক সময় কুড়িগ্রাম ও রংপুর এলাকায় দুর্ভিক্ষ ও মঙ্গা দেখা দিতো। এটা মোকাবিলা করা ছিল সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। আমরা এক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছি। এখন বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ নেই। এটা আমাদের প্রধান সাফল্য।
মন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। এরমধ্যে ৯৪ শতাংশ মানুষের স্যানিটেশন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকে শতভাগ শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, সরকার প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য ঠিক করেছে। ২০১৯ সালের মধ্যে না হলেও ২০২১ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য আদায় করতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
‘কলেরা’ এখন আর ডিকশনিরারিতে নেই উল্লেখ করে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, এখন আর মহামারি বলতে কিছু নেই। আগামী প্রজন্ম এই শব্দের সাথে পরিচিত হবে না। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এটা সরকারের বড় সাফল্য।
কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের বর্ণনা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে দেশের মানুষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চেয়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীদের বেশি ভিড় থাকে। এর গ্রহণযোগ্যতার কথা মাথায় রেখে কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কথা বলেন মন্ত্রী।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে পারলে নিজের জীবদ্দশায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশের চেহারা দেখে যেতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আশফাক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সদ্য সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবুল কাশেম আবদুল মোমেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদিন, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান বাদশাহ, সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলাল প্রমুখ।