Sylhet Today 24 PRINT

১৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি বড়লেখা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মচারির ওপর হামলাকারীরা

বড়লেখা প্রতিনিধি: |  ১২ মার্চ, ২০২২

১৭ দিন অতিবাহিত হলেও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাসের ওপর হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি লাইন ভেঙে করোনার ভ্যাকসিন নিতে না দেওয়ায় প্রণবের ওপর হামলা করা হয়।

এ ঘটনায় ওইদিন প্রণব চন্দ্র দাস অভিযুক্ত মাশরাফি আলম মাহীকে (২০) প্রধান ও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় মামলা করেন। প্রধান অভিযুক্ত মাশরাফি উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম নুনুর ছেলে।

অপরদিকে সিসিটিভি ফুটেজে মাশরাফি আলম মাহী ছাড়াও তালিমপুর ইউনিয়নের আজির উদ্দিনের ছেলে মারজানসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবুও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারছে না।

তবে পুলিশ বলছে হামলকারীরা আত্মগোপনে রয়েছে। মামলার পর থেকে সম্ভাব্য সকল স্থানে অভিযান পরিচালনা করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।

জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার শনিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মচারীর ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রতিদিন পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। কিন্তু তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস শনিবার (১২ মার্চ) রাতে বলেন, ‘লাইন ভেঙে টিকা নিতে না দেওয়ায় কয়েকজন যুবক সংঘবদ্ধভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন অফিস সহায়কের ওপর হামলা করে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। আসামিরা এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। এতে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত হাসপাতাল কর্মচারির অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ১২ বছর থেকে ১৭ বছর বয়সীদের করোনার প্রথম ডোজের টিকা প্রদান কার্যক্রম চলছিল। দুপুরের দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউপির উত্তর চান্দগ্রামের মাশরাফি আলম মাহী ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে লাইন ছাড়াই বুথে প্রবেশ করে অপেক্ষমানদের পেছনে ফেলে তাকে টিকা দিতে জোরজবদস্তি শুরু করে। এসময় অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাস তাকে লাইনে যেতে অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে অফিস সহায়ক প্রণব চন্দ্র দাস, টিকা কার্যক্রমে নিয়োজিত সিস্টার ও ব্রাদারদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে হাসপাতালের নিচে চলে যায়। প্রায় আধঘন্টা পর প্রণব চন্দ্র দাসকে হাসপাতালের নিচে গেলে মাশরাফি আলম মাহী প্রণবকে ডেকে নিয়ে আরও ৭-৮ যুবক মিলে বেধড়ক মারধর করে। এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা প্রণব দাসকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করেন।

ঘটনার পরদিন শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মচারীর ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারিরা।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.