তাহিরপুর প্রতিনিধি: | ০৩ এপ্রিল, ২০২২
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ৪৪ নম্বর প্রকল্পের নির্মিত বাঁধে ফাটলের সৃষ্টি হয়ে তাহিরপুরের মাটিয়ান হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এ অবস্থায় বাঁধটি নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় আছেন মাটিয়ান হাওরের হাজার হাজার কৃষক। বাঁধটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের আনন্দ নগর গ্রামের পাশেই অবস্থান।
শনিবার রাত ১০টায় বাঁধটি ধসে যাওয়ার পরও পিআইসি বাঁধের খরব না রেখে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করেন। পরে বাঁধের পাশের লোকজন প্রশাসনকে জানালে ছুটে আসেন পিআইসি। এই বাঁধের পিআইসির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানান কৃষকরা।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, এই বাঁধে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। বাঁধে নামমাত্র মাটি ফেলে দুরমুজ না করে দায়সারা ভাবে কাজ করেছে দায়িত্ব প্রাপ্ত পিআইসি। তার বিরুদ্ধে আইননুসারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কৃষকরা আরও বলেন, এক পিআইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে অন্যরা নিজ নিজ বাঁধের বিষয়ে সর্তক হয়ে যাবেন। যেখানে যে অনিয়ম করেছে সেখানে তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে বাঁধে কাজ করবে। এতে করে হাওরের বাঁধগুলো নিয়ে কৃষকদের আতংকিত হতে হবে না।
খবর পেয়ে ১২টায় মাটিয়ান হাওরের বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে বাঁধে ছুটে যান তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আলাউদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা, তাহিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রমুখ।
এসময় স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে বাঁশ, কোদাল ও বাশের ছাঁটাই দিয়ে বাঁধটি রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালান সবাই।
৪৪ নম্বর প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পিআইসি সভাপতি মিজিল মিয়া ও সেক্রেটারি কয়েছ মিয়া বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি।
স্থানীয় কৃষক আরিফ মিয়া জানান, ৪৪ নম্বর প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা পিআইসি সভাপতি ফিজিল মিয়া ও সেক্রেটারি কয়েছ মিয়া বাঁধ নির্মাণ কাজ নিয়ে গাফেলতি করেছেন। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হওয়ার কারণেই আমরা এখন ফসল নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছি। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে হাওর পাড়ের কৃষকদের।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির জানান, আমরা রাতেই বাঁধে যাই। বাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান, উপজেলার আনন্দ নগর গ্রামের পাশে বাঁধ দিয়ে সরু পথে পানি প্রবেশের খবর পাই। গভীর রাতেই স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে বাঁধটি রক্ষায় চেষ্টা চালাই। বাকিটুকু মহান স্রষ্টার ইচ্ছে।