Sylhet Today 24 PRINT

টিপ পরায় হেনস্তার প্রতিবাদকারীদের ব্যঙ্গ সিলেটের পুলিশ কর্মকর্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ০৪ এপ্রিল, ২০২২

টিপ পরায় এক নারীকে হেনস্তায় তোলপাড় চলছে দেশজুড়ে। পুলিশ সদস্যের এমন ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। তবে এই প্রতিবাদকারীদের নিয়েই ব্যঙ্গ করেছেন আরেক পুলিশ সদস্য। লিয়াকত আলী নামের ওই পুলিশ কর্মকর্তা সিলেট জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত।

সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে টিপকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের বিদ্রূপ করেন লিয়াকত। এতে নারীর পোশাক নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।

লিয়াকতেই ওই স্ট্যাটাসের নিচে সমালোচনা করে মন্তব্য করেন কেউ কেউ। তবে বেশিরভাগ মন্তব্যকারীই লিয়াকতের বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে তার প্রশংসা করেছেন। তবে সন্ধ্যার দিকে নিজের স্ট্যাটাসটি মুছে (ডিলিট) দেন লিয়াকত।

এরআগে দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে লিয়াকত লিখেন-  'টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানির করার প্রতিবাদে অনেক পুরুষ নিজেরাই কপালে টিপ লাগাইয়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু আমি ভবিষ্যৎ ভাবনায় শংকিত। বিভিন্ন শহরে অনেক নারীরা যেসব খোলামেলা পোশাক পরে চলাফেরা করেন- তারমধ্যে অনেকেরই ব্রায়ের উপরে দিকে প্রায় অর্ধেক আন-কভার থাকে। পাতলা কাপড়ের কারণে বাকি অর্ধেকও দৃশ্যমান থাকে। এখন যদি কোনো পুরুষ এইভাবে ব্রা পরার কারণে কোনো নারীকে হয়রানি করে তবে কি তখনও আজকে কপালে টিপ লাগানো প্রতিবাদকারী পুরুষগণ একইভাবে ব্রা পরে প্রতিবাদ করবেন ???”

এমন স্ট্যাটাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী বলেন, ওই স্ট্যাটাস আমি ডিলিট করে দিয়েছি। যেটা ডিলিট করে দিয়েছি, যেটার অস্তিত্বই নাই সেটা নিয়ে আমি কথা বলবো না।

স্ট্যাটাস কেন ডিলিট করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে লিয়াকত বলেন, আমার ভালো লাগছিলো তাই দিছিলাম। পরে ভালো লাগে নাই তাই সরিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া ওটা আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট। প্রাতিষ্ঠানিক কিছু না।

টিপ  পরা নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি দাবি করে তিনি বলেন, পুরুষ হয়ে টিপ পরে প্রতিবাদ জানানোর ভাষাটা আমার কাছে ঠিক সঠিক মনে হয়নি। সেটা নিয়ে লিখেছি।

তবে পুলিশ সদস্যের এমন স্ট্যাটাসকে আপত্তিকর উল্লেখ করে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন।

তিনি বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের এমন মন্তব্য খুবই আপত্তিকর ও মানহানিকর। তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। আমি আশা করবো কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে অপসারণ করবে।

এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) লুৎফুর রহমান  বলেন,  বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি নিয়ে আমাদের হেড কোয়ার্টার থেকে একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। লিয়াকত আলীর স্ট্যাটাসে ওই গাইডলাইনের  ব্যত্যয় ঘটেছে কি-না তা খতিয়ে দেখছি।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার কপালে টিপ পরে হেনস্তার শিকার হন তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. লতা সমাদ্দার। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবল নাজমুল তারেককে চিহ্নিত করে সোমবার বরখাস্ত করেছে পুলিশ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.