চুনারুঘাট প্রতিনিধি | ০৭ এপ্রিল, ২০২২
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলগাঁও অংশে মরা নদীর ভূমি উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিল্টন চন্দ্র পাল এর নেতৃত্বে সার্ভেয়ার আব্দুস শহীদ ও আব্দুল হান্নান অবৈধভাবে দখলকৃত নদীর ২৮ একর ভূমির মধ্যে ৫ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত ভূমিতে লাল নিশানা টাঙ্গানো হয়েছে। মরা নদীর বাহুবল ও চুনারুঘাট অংশে প্রায় ৩ বছর পুর্বে ইজারা দেয় জেলা প্রশাসন। কিন্তু দখলবাজরা দীর্ঘদিন ধরে দখল করে রাখে নদীটি। একাধিকবার জেলা ও উপজেলা প্রশাসন উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়।
অবশেষে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিল্টন চন্দ্র পাল, চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৫ একর ভূমি উদ্ধার করে ফদ্রখলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট হস্তান্তর করেন।
জানা যায়, ভূমি মন্ত্রনালয় কর্তৃক ১৪২৮ বাংলার ১৪২৬ বাংলা হতে ১৪৩১ বাংলার উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু দখলবাজরা চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গোলগাঁও ও বাহুবল উপজেলার সীমান্তবর্তী লাকুড়ী পাড়া, দত্তপাড়া ও নোয়াগাঁও অংশে নদীর দুই তীরের প্রায় ২৮ একর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে রাখে দখলবাজরা। এর মধ্যে আনুমানিক ৫ একর ভূমি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
নদীটি ভরাট হয়ে মরে যাওয়ায় খননের উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এজন্য কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু দুই পাড়ের অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা যাচ্ছিল না। অবশেষে জেলা প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন ।
সরজমিনে দেখা যায়, নদীর দুই তীরের ভূমি অবৈধভাবে দখল করে বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবহার করে আসছিল। এসব জায়গাগুলো চিহ্নিত করে লালা নিশানা টাঙ্গানো হয়েছে।
চুনারুঘাটের সহকারী কমিশনার ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, সরকারি ভূমি অবৈধভাবে দখল করে রাখা যায় না। নদী, খাল-বিল ইত্যাদি সরকারি জায়গা দখল করে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে বাকী আরও ২৩ একর নদী রকম ভূমি দখলদারের কবল থেকে উদ্ধার করা হবে। এতে যদি কেউ বাধা প্রদান করে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুশিয়ারী দেন এই সহকারী কমিশনার।