Sylhet Today 24 PRINT

হাওরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, দ্রুত ধান কাটার আহ্বান

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ১১ এপ্রিল, ২০২২

সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত না হলেও ভারতের মেঘালয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে একের এক এক বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে হাওরের বোরো ফসল। ফসল তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাওরপাড়ের কৃষক। হাওরপাড়ের বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবু হুমকির মুখে হাওরের শতাধিক ফসল রক্ষাবাঁধ। এখনো হাওরের ধান পাকেনি, তাই কাঁচা ও আধাপাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক। এদিকে গত তিনদিন ধরে নদনদী ও হাওরের পানি কমলেও আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এজন্য দ্রুত কৃষকদের হাওরের ধান কাটার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যা সম্পর্কিত বিশেষ প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং অন্যান্য বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলতি সপ্তাহে স্বাভাবিক থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম (বরাক অববাহিকা) এবং মেঘালয় প্রদেশে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আগামী ১৭ এপ্রিল নাগাদ বৃষ্টিপাতের ফলে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, লুভাছড়া, সারিগোয়াইন, ধলাগাং, পিয়াইন, ঝালুখালী, সোমেশ্বরী, ভুঘাই-কংস, ধনু-বাউলাই নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার কিছু স্থানে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পওর-১) জহিরুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন নদনদীসহ হাওরের পানি কমেছিল। কিন্তু পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা। এমনিতে পাহাড়ি ঢলে হাওরে প্রচুর পানি। অনেক জায়গায় বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। আগামী ১৭ এপ্রিলের ভেতরে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে হাওরাঞ্চলের বোরো ধান ঝুঁকিতে পড়বে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া অফিসের তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, জেলার সব হাওরের কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার অনুরোধ জানিয়েছি। হাওরের কোথাও ফসল রক্ষাবাঁধে ফাটল দেখা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সব উপজেলা প্রশাসন ও  জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধ জানিয়েছি।

এদিকে এক সপ্তাহের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর, দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা, তাহিরপুর উপজেলাসহ অধিকাংশ উপজেলার ১৪টি হাওরের বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে তলিয়ে গেছে। এতে হাওরের হাজার হাজার হেক্টর জমির কাঁচা ও আধাপাকা ধান ডুবে গেছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি হাওরের পাঁচ হাজার ১০ হেক্টর জমি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। এ পর্যন্ত জেলায় এক হাজার ৪৬৭ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.