Sylhet Today 24 PRINT

জগন্নাথপুরে পানি কমলেও ফসল নিয়ে শঙ্কা কাটছে না

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি  |  ১৪ এপ্রিল, ২০২২

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নদ-নদীর পানি কমেছে। গত মঙ্গল ও বুধবার ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়াতে জগন্নাথপুরের নদ নদীর পানি কমেছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফসল নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, গত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে হাওরের বাঁধ রক্ষায় লড়ছিলেন কৃষকরা। পানির চাপ কমে যাওয়ায় ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করায় স্বতি দেখা দিলেও নতুন করে ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। এরমধ্যে আবহাওর অধিদপ্তরের অকাল বন্যার পূর্বাভাসে ক্ষেতের ফসল নিয়ে আতংঙ্কে আছেন কৃষকরা।

জগন্নাথপুরের নলুয়া হাওরসহ কয়েকটি হাওরঘুরে দেখা যায়, আধা-পাকা ধানের শীষ বাতাসে দুলছে। বিচ্ছিন্নভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে। পুরোদমে এখনও ধান কাটার মহাৎসব শুরু হয়নি।

অনেকে জমির পাকা ধান পড়ে আছে। আবার কিছু কিছু জমির ধান কাঁচা আধা পাকা রয়েছে।

নলুয়া হাওরের কৃষক আব্দুর কাদের জানান, গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু হয়েছে। এতে করে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও শঙ্কা আছে। শ্রমিক সংকটের কারণে ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে পারছি না। এরমধ্যে বন্যার আতঙ্ক। ফসল গোলায় না তোলা পর্যন্ত শান্তি নেই আমাদের।

এদিকে গত মঙ্গলবার বিকেলে হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতারা হাওর পরিদর্শন করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হাওরে শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান জমিতে পড়ে আছে।

এছাড়া সময়মতো হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ শুরু না করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির লোকজন দায়সারাভাবে বাঁধ নির্মাণ করে সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের পায়তারার কারণে ফসলরক্ষা বেড়িবাঁধ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
 
আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুর রহমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে হাওরের দুর্বল কয়েকটি বেড়িবাঁধ রক্ষায় কৃষকরা লড়ছিলেন। গত দুইদিন পানি কমায় কিছুটা আতঙ্ক কমেছে।  তবে হাওরঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমিতে পাকা ধান পড়ে আছে। শ্রমিক সংকটের কারণে এসব ফসল কৃষক গোলায় তোলতে পারছেন না।

তিনি অভিযোগ করেন, গত চার বছর প্রাকৃতিক বিপর্যয় না আসায় এবার কাজে গাফিলতি করা হয় অর্থ আত্মসাৎ করতে। বেড়িবাঁধ নির্মাণে এসব গাফিলতি মেনে নেওয়া যাবে না।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, হাওরের শ্রমিক সংকট দূর করতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার ৩২ টি কম্বাইন হারভেস্টার যন্ত্র রয়েছে হাওরে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, আমাদের যোগসাজশে প্রকল্প কমিটি  টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা সাধ্যমতে সঠিকভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.