জগন্নাথপুর প্রতিনিধি | ১৮ এপ্রিল, ২০২২
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুমে গ্রাম্য সালিসের রায় না মানায় সমাজচ্যুত পরিবার কে মারধর করায় দুই সালিসি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের শামীম আহমেদ(৫০) ও আজগর আলী(৪৫)
পুলিশ, এলাবাসী ও ভূক্তভোগী পরিবার সূত্র জানায়, জগন্নাথপুরের পাটলী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের দিনমজুর নুরুল ইসলাম ও তার চাচাতো ভাই জহুর আলীর মধ্যে বাড়ির রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। যার জের ধরে ২০ ফেব্রুয়ারি এক গ্রাম্য সালিশ বৈঠকে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি হাবিজ উল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পঞ্চায়েতের লোকজন উভয়পক্ষকে জায়গা ছাড়তে রায় দেন। এ রায় নুরুল ইসলামের পক্ষের লোকজন না মানায় তাকেও তার পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়।
পরবর্তীতে ২৩ মার্চ গ্রামের খলিল মিয়ার বাড়িতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আবারো সালিশ বৈঠক বসে। উক্ত বৈঠকে কথাকাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে সালিশকারীরা খলিলুর রহমান কে সমাজচ্যুত করার ঘোষণা দেন। এসময় সালিসকারীদের হামলায় খলিলুর রহমানের পক্ষে তমিজ আলী(৭০) লায়েক আলী(৫০) ও নুরুল ইসলামের স্ত্রী করিমুননেছা(৪০) আহত হন। এঘটনায় নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে গত ১৩ এপ্রিল জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
ইসলামপুর গ্রামের খলিলুর রহমান বলেন, অন্যায়ভাবে দিনমজুর পরিবারের তিন ভাই কে সমাজচ্যুত করার ঘটনার প্রতিবাদ করায় আমাকেও সমাজচ্যুত করা হয়। আমাদের কে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
ইসলামপুর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি সালিসি বৈঠকের সভাপতি হাবিজ উল্যাহ বলেন, একাধিকবার বৈঠক করে সমাধানের লক্ষ্যে সিদ্ধান্তে পৌঁছলেও নুরুল ইসলামের পক্ষের লোকজন না মানায় আমরা বলেছি তাদের সাথে সামাজিক কোন কাজে যুক্ত থাকব না। সালিসিকারীদের গালিগালাজ করায় দুপক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক মির্জা সাফায়াত হোসেন বলেন, গ্রাম্য সালিশকারীরা অন্যায়ভাবে চারটি পরিবারকে সমাজচ্যুত করে রেখেছে। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।