Sylhet Today 24 PRINT

পানি কমেছে, আতঙ্ক কাটেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৮ এপ্রিল, ২০২২

সুনামগঞ্জে সোমবার ভারী বৃষ্টি হয়নি। একইভাবে রোববার উজানে ভারতের মেঘালয় ও চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হয়েছে তুলনামূলক কম। তবে এখনো নদী ও হাওরে পানির চাপ আছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা বলছেন, সোমবার সকালের তুলনায় বিকেলে সুরমা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে করে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। রোববার রাতেও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি হাওরের বাঁধ ভেঙে ফসল তলিয়েছে। ঝুঁকি আছে সব হাওরেই। এ অবস্থায় আতঙ্কে কৃষকেরা যেভাবে পারছেন পাকা ও আধা পাকা ধান কেটে তোলার

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর পানি রোববার সকাল ৯টা থেকে সোমবার ৯টা পর্যন্ত ৮ সেন্টিমিটার বাড়ে। আজ সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৯৪ মিটার। সেটা দুপুর ১২টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৯৬ মিটারে। সন্ধ্যা ৬টায় পানি কমেছে ১ সেন্টিমিটার।

সুনামগঞ্জের খরচার হাওরপারের কৃষ্ণনগর গ্রামের কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ বলেন, আর অপেক্ষা করা যায় না। নদী ও হাওর ঢলের পানিতে ভরে গেছে। যেকোনো সময় হাওরে পানি ঢুকতে পারে। তাই যা পারছেন ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. একরার হোসেন বলেন, তাদের এলাকার টাংনির হাওরের বাঁধ এক দফা ভেঙেছে। পরে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আগেই কয়েক শ মানুষ তিন দিন টানা কাজ করে সেটি ঠিক করেছেন। আবার ঢলের পানি বেড়েছে। তাঁরা এখন দ্রুত কৃষকদের ধান কাটতে বলছেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হান কবির বলেন, পানির চাপ আছে। কোনো হাওর বা বাঁধই ঝুঁকিমুক্ত নয়। তবে বৃষ্টি হচ্ছে না, এটা ভালো দিক। বৃষ্টি হলে সমস্যা বাড়বে। যেকোনো স্থানে বাঁধ ভাঙতে পারে। কারণ এই বাঁধগুলো ২০ দিন ধরে পানির চাপের সঙ্গে লড়াই করে ঠিকে আছে। তারা দিনরাত বাঁধে কাজ করছেন।

সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ বলছে, রোববার পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৯৫ হেক্টর। সোমবার ১৭ হাজার হেক্টরের ধান কাটা হতে পারে। তারা দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। নানাভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। মাঠে শ্রমিকদের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার ও রিপার কাজ করছে।

এবার জেলার ১৩৭টি ছোট–বড় হাওরে ২ লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতি হয়েছে ৫ হাজার ৫১০ হেক্টর।

সুনামগঞ্জে এবার প্রথম দফা পাহাড়ি ঢল নামে ৩০ মার্চ। প্রথম দফা ঢলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আবার দ্বিতীয় দফা ঢল নামছে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে। এতে করে জেলার সব নদ-নদীর পানি আবার বেড়েছে। একইভাবে এসব হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধগুলোতেও পানির চাপ বাড়ছে। এ পর্যন্ত জেলার ছোট–বড় ১৭টি হাওর ও বিলে ঢলের পানিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, পানির চাপ সবখানেই আছে। সুরমা নদীর পানি সোমবার সন্ধ্যায় ১ সেন্টিমিটার কমেছে। এটাতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। তারা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে সংস্কারকাজ করছেন। সবখানেই তাঁদের লোকজন আছে। স্থানীয় লোকজনও সহযোগিতা করছেন।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.