Sylhet Today 24 PRINT

হাওরে স্বস্তির রোদ, ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

শান্তিগঞ্জ প্রতিনিধি |  ২৪ এপ্রিল, ২০২২

গত দুই সপ্তাহ ধরে সুনামগঞ্জে শুধু দুঃসংবাদ। কেবল বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার খবর। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ উপচে ও ভেঙে ইতোমধ্যে শাল্লার ছায়ার হাওর, তাহিরপুরের নজরখালী, টাঙ্গুয়ার একাংশ, গুমরার হাওর, দিরাইর চাতল, জগন্নাথপুরে নলুয়ার হাওরসহ জেলার ১৯টি ছোট-বড় হাওর, বাওর ও ফসলি বিল তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়েক হাজার কৃষকের প্রায় ১০ হাজার হেক্টর আবাদি জমি।

তবে, গত শনিবার থেকে সুনামগঞ্জের আকাশে দেখা যাচ্ছে জ্বলমলে রোদ। এ রোদে স্বস্তিতে ছিলেন সাধারণ মানুষ ও কৃষক-কৃষাণীরা। রোববার নদ-নদীতেও বাড়েনি না ঢল-বৃষ্টির পানি। এবার শান্তিগঞ্জ উপজেলার সবক’টি ফসল রক্ষা বাঁধ রক্ষা পেয়েছে। দু’একটি জায়গায় নদীর পানি বেড়ে পাড় উপচে দেখার হাওরে পানি প্রবেশ করলেও ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। এ অবস্থায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা  খুশি। দ্বিগুণ বেড়েছে তাদের মনোবল। এ মনোবল নিয়ে মাঠে কাজ করছেন তারা।

রোববার সরিজেমিনে আস্তমা সংলগ্ন তেছারকোণার হাওরে গিয়ে দেখা যায়, পাবনা থেকে ধান কাটার শ্রমিক এনে ধান কাটাচ্ছেন আস্তমা গ্রামের কৃষক মুজিবুর রহমান। এ জমিতে যে পরিমাণের শ্রমিক লাগানোর কথা মুজিবুর রহমান লাগিয়েছেনর তার দ্বিগুণ শ্রমিক, যেনো দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন। একই দৃশ্য উপজেলার সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদরপুর সেতুর দক্ষিণে নাগডরার হাওরে। আকাশে কাঠফাঁটা রোদ, তবু কৃষক-কৃষাণীর মাঝে কোনো ক্লান্তি নেই। বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। থামবার কোনো ফুঁসরত নেই কারোর। কত দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলা যায় এ চিন্তার বাইরে যেনো কোনো চিন্তাই তাঁরা করছেন না। টানা দু’দিনের রোদে তাঁদের মনোবল যেনো দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। এজন্য তাঁরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কৃষকরা জানান, বর্তমান যে অবস্থা যদি এমন ভালো আবহাওয়া আরো এক সপ্তাহ থাকে তাহলে প্রায় সব কৃষকরাই শতভাগ ধান ঘরে তুলতে পারবেন।

আস্তমা গ্রামের অপর কৃষক জিল্লুর রহমান জানান, তেছারকোণা ও দেখার হাওরে আমি জমি চাষ করেছি। এমন ভালো দিন মাদান দেখে আমার মনের জোর একশোতে একশো বেড়ে গিয়েছে। কিছু ধান ইতোমধ্যে কাটিয়েছি। এখন আর পানি বাড়ছে না। রোদ উঠেছে। বেরিবাঁধগুলো মনে হচ্ছে আর ভাঙবে না। এজন্য আল্লাহর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। এখানে বাঁধের সাথে কৃষকের কিসমতের বিষয় আসয় জড়িত। আল্লাহ্ চাহেন তো, আগামী সপ্তাহের মধ্যে আমার সব জমি কাটিয়ে শেষ করে ফেলবো।

পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের অতি ক্ষুদ্র বর্গা চাষী আবুল হোসেন। তিনি জমি চাষ করেছেন পাগলা দক্ষিণের হাওর ও নাগডরার হাওরে। দাদনদারদের কাছ থেকে টাকা এনে জমিতে চাষ করেছিলেন। এতোদিন তিনি ভীষণ চিন্তায় ছিলেন। আপাতত তার এ চিন্তা নেই। পুরোদমে মাঠে কাজ করছেন।

তিনি জানান, অবসর সময়ে রিকশা চালাই। আর সামান্য কৃষি খেত করে সংসার চালাই। যেভাবে হাওর ডুবা শুরু হইছিলো মনটা একেবারেই ভেঙে গিয়েছিলো। এখন মনে শক্তি বাড়ছে। ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.