নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী হয়েছেন ছয়জন। এরমধ্যে আওয়ামী লীগের মেনোনিত প্রার্থী খলিল উদ্দিন আর বিএনপির মনোনিত প্রার্থী বদরুল হক। শীর্ষ দুই দলের এই দুই প্রার্থীরই পেশা 'মৌসুমি ব্যবসা'। হলফনামায় নিজেদের পেশা হিসেবে এমনটিই উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক আহমদ চৌধুরী বলেন, হয়তো খণ্ডকালীন বোঝাতে ‘মৌসুমি’ ব্যবসায়ী শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি অস্পষ্ট। নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রার্থীদের পেশার ক্ষেত্রে তথ্য সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নিতে পারলে ভোটারদেরও ভালোভাবে জানার সুযোগ থাকত।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসা’র ধরন জানতে চেয়ে কেউ আবেদন করলে বিষয়টি সুস্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
এই পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অন্য ছয় প্রার্থীর পেশাও ব্যবসা। ওই ছয় প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। দেনাগ্রস্ত রয়েছেন একজন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএনপির প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি বদরুল হক এমকম পাস। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পেশায় ‘মৌসুমি ব্যবসা’ বদরুলের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তাঁর ও স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫৬ হাজার টাকা, কিছু আসবাবপত্র ও তিন ভরি স্বর্ণালংকারও রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে যৌথ মালিকানায় একটি বাড়ি রয়েছে। তাঁর কোনো দেনা নেই।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী খলিল উদ্দিন উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনিও ‘মৌসুমি ব্যবসা’ করেন। তাঁর বার্ষিক আয় আড়াই লাখ টাকা। তাঁর ও স্ত্রীর মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২১ হাজার টাকা, কিছু ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারও রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪২ শতকের একটি বাড়ি। তাঁর কোনো দেনা নেই।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র আবদুল মালেক পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী মালেকের বিরুদ্ধে মামলা নেই। বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা। তাঁর ও স্ত্রীর মিলিয়ে ৩১ লাখ ৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কিছু অকৃষি জমি ও দালানের কিছু অংশ রয়েছে। তাঁর কোনো দেনা নেই।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী ফারুক ‘স্বশিক্ষিত’। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছয়টি মামলার মধ্যে দুটি বিচারাধীন রয়েছে এবং বাকি চারটি নিষ্পত্তি হয়েছে। তাঁর বার্ষিক আয় এক লাখ টাকা। তাঁর ও স্ত্রীর মিলিয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ কিংবা দেনা নেই।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হিফজুর রহমান ফাজিল পাস। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদ রয়েছে এক লাখ টাকার। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই, দেনাও নেই।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফরুল ইসলাম মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। পেশায় খামার ব্যবসায়ী জাফরুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাঁর বার্ষিক আয় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর ও স্ত্রীর মিলিয়ে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও কিছু ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, আসবাবপত্র ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৮৪ শতক কৃষি ও অকৃষি জমি। তাঁর ১৫ লাখ টাকার দেনা রয়েছে।