নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
পেছনে গণকবর। সারিবদ্ধ সমাধি। অথচ সামনে সাইনবোর্ড টানানো ‘গোচারণ ভূমি’। সিলেটের বালুচরে জেলা দুগ্ধখামারে গিয়ে দেখা যায় এ দৃশ্য। গণকবরের ঠিক সামনে গোচারণ ভুমির সাইনবোর্ড টানানোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। এটি শহীদদের প্রতি অপমান বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে ১৪ ডিসেম্বর বিজয়ের ঠিক প্রাক্কালে সিলেটের বালুচর এলাকায় পাক হায়েনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয় মুক্তিযোদ্ধারা। এতে আলুরতল এলাকায় শহীদ হন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট বি, ডি কোম্পানীর বেশ ক’জন সৈনিক।
দীর্ঘদিন অবহেলায় অরক্ষিতভাবে পড়েছিলো এই গণকবর। শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় ছিলো না কোনো উদ্যোগ। ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতায় সেনাবাহিনী বালুচর এলাকার গণকবর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বালুচর এলাকায় বনবিভাগ, সিলেটে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, এমসি কলেজ ও জেলা দুগ্ধ খামারের ভূমিতে নির্মান করা হয় সমাধিসৌধ। সমাধিসৌধগুলোর সামনে টানানো হয় ’৭১-এর সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ সেনাসদস্যদের নামের তালিকা। প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর স্থানীয় অনেকে ও পাশ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা এসব সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অথচ জেলা দুগ্ধ খামারের জমিতে নির্মিত সমাধিসৌধের সামনেই টানিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘গো-চারণ ভূমি’ সাইনবোর্ড।
জেলা দুগ্ধ খামার সূত্রে জানা যায়, গণকবর হিসেবে চিহ্নিত করে দুগ্ধ খামারের যে জমিতে সমাধিসৌধ গড়ে তোলা হয়েছে সেই জমি দীর্ঘদিন ধরেই খামারের গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। খামারের গরুর জন্য এই জমিতে ঘাসের চাষও করা হয়। তবে সমাধিসৌধের ঠিক সামনেই ‘গোচারণ ভূমি’ সাইনবোর্ড অসাবধানতাবশত টানানো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুগ্ধ খামারের কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুব্রত চক্রবর্তী জুয়েল বলেন, গণকবরের সামনে গো-চারণ ভুমি সাইনবোর্ড টানানো কেবল শহীদদের প্রতি অবজ্ঞা নয়, এ আচরণ ধৃষ্টতারই শামিল।
তিনি বলেন, যাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা এই দেশটা পেয়েছি তাদের যদি সম্মান জানাতে না পারি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি হিসেবে পরিচিত হব। জাতি হিসেবেও আমরা কখনো সম্মানের আসনে পৌছতে পারবো না।
এ ব্যাপারে সিলেট জেলা দুগ্ধ খামারের সহকারী পরিচালক ডা. ইসহাক আলী বলেন, ভুলবশত এই সাইনবোর্ডটি লাগানো হয়ে গেছে। এটি ঠিক হয়নি। সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলা হবে বলে জানান ইসহাক আলী।