নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মে, ২০২২
সিলেট রাত ১২টা, সিলেটের অভিজাত ফ্যাশন হাউস মাহা‘তে পা ফেলার জায়গা নেই। কেউ পোশাক কিনছেন, কেউ কসমেটিকস, কেউবা গহনা। মাহাতে পোশাক কিনতে এসেছে নাবিহাত (১২)। নির্ঘুম চোখে মা বাবার সাথে দিব্বি ঘুরে ঘুরে ঈদের কেনা কাটা করছে সে। নাবিহাত বলে, দিনের বেলা আব্বু আম্মু ব্যস্ত থাকেন, তাই আমরা রাতে এসেছি ঈদের শপিং করতে।
ফ্যাশন হাউস মাহার মত নগরীর প্রায় ছোট বড় সব মার্কেট, শপিংমল, দোকান এখন ক্রেতা ভরপুর। মধ্যরাত পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। তাই গত কয়েকদিন যাবত ভরদুপুরের মত মধ্যরাতেও নগরীর জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক এলাকায় দীর্ঘসময় থাকে যানজট। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে টানা দুই বছর সিলেটে জমেনি ঈদের বাজার। তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় রোজার আগে থেকেই ক্রেতা আকর্ষণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাজসজ্জাসহ নানা প্রস্তুতি নেন ব্যবসায়ীরা। তবে রোজা শুরুর দিকে খুব একটা ক্রেতাসমগম না হলেও গত কয়েকদিন ধরে নতুন জামা-কাপড় কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
শনিবার রাত ১২টার দিকে নগরীর জিন্দাবাজারের ব্লু-ওয়াটার শপিং সিটি, আল-হামরা শপিং সেন্টার, শুকরিয়া মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি শপিংমল ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। বাহারি ডিজাইনের পোশাক বিক্রিতে ব্যস্তসময় পার করছেন বিক্রেতারা।
গতকাল শুক্রবারও নগরীর মার্কেটগুলোতে ছিল ক্রেতাদের ভিড়। নগরীর অভিজাত ফ্যাশন পাড়া হিসেবে পরিচিতি কুমারপাড়া ও নয়াসড়ক এলাকায়ও ছিল ক্রেতা সমাগম। তবে ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, তুলনামূলক দিনের থেকে রাতের বেলা ক্রেতারা বেশী আসেন এই এলাকার মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে।
এদিকে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে বর্ণিল সাজে সেজেছে পুরো সিলেট। নগরীর প্রতিটি মার্কেট আর শপিংমলে করা হয়েছে আলোক সজ্জা। শুধু মার্কেট আর শপিংমলে নয় আলোক সজ্জা করা হয়েছে সড়কেও। এসব আলোকসজ্জাও ক্রেতাদের শপিং করতে আকৃষ্ট করছে।
নগরীর জিন্দাবাজারের ব্লুওয়াটার শপিং সিটিতে ঈদের পোশাক কিনতে আসা সামিয়া রিমি জানান, গত বছর করোনা থাকায় মার্কেটে আসতে পারিনি। তাই এবার সবকিছু স্বাভাবিক থাকায় শপিং করতে চলে এসেছি। আমার দুই বোন অরগেন্জা টিস্যু ড্রেস কিনেছি। ড্রেস কেনার পাশাপাশি আমরা প্রচুর ঘুরাঘুরিও করতেছি।
মাহা ফ্যাশন হাউসের ম্যানেজার আব্দুল কাদির বলেন, বিক্রি অনেক ভাল হচ্ছে। অনেক ক্রেতা আসছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমত সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি। নতুন ট্রেন্ডি পোশাকসহ বাহারি পণ্য আমরা ক্রেতাদের সরবরাহ করছি। মধ্যরাত পর্যন্ত আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখছি ক্রেতাদের সুবিধার্থে।
সিলেটের আরেকটি অভিজাত শপিংমল আল হামরা শপিং সিটির ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, সিলেটবাসী কেনাকাটাও শুরু করেছেন। রাত ৮টার পর থেকে পুরো মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে রাত ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত। দিনেরবেলাও কিছু ক্রেতা আসেন।