নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক সিলেটের উদ্যোগে গত রবিবার বেলা ১২টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীনের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ খসড়ার ১৬নং ধারায় বিশেষ বিধান বাতিল করে মেয়েদের ন্যূনতম বিয়ের বয়স শর্তহীনভাবে ১৮ বছর বহাল রাখার দাবীতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, মেয়েদের বিয়ের বয়স শর্তসাপেক্ষে ১৮ এর পরিবর্তে ১৬ করা হলে মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্তগ্রহণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি, নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধিসহ অপরিণত গর্ভধারণ, ফিস্টুলা, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ঝড়ে পড়ার হার এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের সামগ্রীক উন্নয়ন কর্মকান্ডে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। স্মারকলিপিতে দেশের সকল নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিশেষ বিধান বাতিলের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। প্রস্তাবিত বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪ এ কোন ধরণের শর্ত আরোপ ব্যাতিরেকে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর বহাল রাখার জোড় দাবী জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক সিলেটের আহ্বায়ক ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, যৌন হয়রানি নির্মূলকরণ নেটওয়ার্ক সিলেটের কার্য নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে সিলেট আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, মহিলা আইনজীবি সমিতি সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়কারী এ্যাড. শিরিন আক্তার, এ্যাড. জোৎস্না বেগম, পরিবেশ আন্দোলন বেলার সমন্বয়কারী এ্যাড. শাহ শাহেদা, সমকাল সাংবাদিক ইউসুফ আলী, জেলা ব্র্যাক প্রতিনিধি বিভাষ চন্দ্র তরফদার, মেজনিন কর্মসূচি ব্র্যাক সিলেটের সেক্টর স্পেশালিস্ট রবিউল ইসলাম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মেজনিন কর্মসূচির জুনিয়র সেক্টর স্পেশালিস্ট শাহ এমরান আলী ও রোকেয়া বেগম। স্মারকলিপি প্রদানের সময় সকলে আশা ব্যক্ত করে বলেন, বাল্যবিয়ে বন্ধ করে মেয়ে শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত ও নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পথ বাংলাদেশ দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য অর্জন করবে।