Sylhet Today 24 PRINT

শিশুদের হাতে অটোরিকশা, ঝুঁকি বাড়ছে

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর |  ০৯ মে, ২০২২

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে এমনিতেই বিতর্ক আছে। প্রশ্ন আছে এগুলোর বৈধতা নিয়ে। তবে জগন্নাথপুর এই ঝুঁকিপূর্ণ বাহন চলছে অবাধেই। তাও এগুলোর অনেকটির চালক শিশু ও কিশোররা।

৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু কিশোররা প্রকাশ্যে শহর এবং আশেপাশের এলাকায় বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছে অটোরিকশা।

অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ শিশুরা যান্ত্রিক যান চালনায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার পাশপাশি শিশুশ্রম আইনও লঙ্ঘিত হচ্ছে। আর ট্রাফিক পুলিশের দাবি, শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা নেয়া যায় না।

রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, জগন্নাথপুর পৌর শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে প্রতিদিন সহস্রাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এর মধ্যে প্রায় শতাধিক অটোরিকশার চালক ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু কিশোররা। আর এসব শিশু চালকের অধিকাংশ কানে হেডফোন লাগিয়ে বেপরোয়া গতিতে অটোরিকশা চালাচ্ছে শহরের প্রধান সড়কে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের নজরে পড়লেও বিষয়টি নিয়ে কোন মাথাব্যাথা নেই তাদের। এতে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু কিশোর অটোরিকশা চালক।

অটোরিকশা চালক জীবন আহমদ বলে, ‘আগে আমার বাবা চালাতেন। এখন তিনি অসুস্থ। অন্য কাজ থেকে রিকশা চালানোতে পরিশ্রম কম। তাই ৮ মাস ধরে রিকশা চালিয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করছি।

৯ বছর বয়সী অটোরিকশা চালক সজীব আহমদ বলে, ‘হোটেলে ৮-৯ঘণ্টা কাজ করলে ১০০ টাকা পাই। অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার হয়। সৈয়দপুর  এলাকার একজনের কাছ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে রিকশা এনেছি। ট্রাফিক পুলিশ আটকালে পরে রিকশার মালিক ছাড়িয়ে নেন।’

৮ বছর বয়সী চালক নাঈম বলেন, ‘গত ৪ মাস ধরে হবিপুর গ্রামের ঝুনুর মিয়ার রিকশা ভাড়া নিয়ে চালাই। কেউ কিছু বলে না। মটর দিয়ে রিকশা চলে তাই কষ্ট তেমন লাগে না।’

প্রাপ্তবয়স্ক অটোরিকশা চালক সোহেল মিয়া ও আলী হোসেন বলেন, ছোট শিশু হওয়ায় এরা রিকশার গতি নিয়ে কিছুই জানে না। যখন তখন ভিড়ের মধ্যে ওভারটেক করে এবং রিকশা ঘোরানোর চেষ্টা করে। এতে আমাদের রিকশা চালাতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

পৌর শহরের ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অনভিজ্ঞ এসব শিশুরা কানে হেডফোন লাগিয়ে পাশে সমবয়সী আরেকজনকে বসিয়ে বেপরোয়া গতিতে রিকশা চালায়। এদের রিকশায় ওঠলে ভয় করে কখন জানি দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।

জগন্নাথপুর সরকারি কলেজের ছাত্র সৈয়দ রিয়াদ আহমদ বলেন, ট্রাফিক আইন তো দূরের কথা, কিভাবে যান্ত্রিক এই যান চালাতে হয় জানে না ক্ষুদে শিশুরা। অথচ এরা এখন বেপরোয়া গতিতে সড়কে অটোরিকশা চালায়। এটা দেখলেই ভয় লাগে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি রাখা উচিত এবং এদের হাতে এসব যান তুলে না দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো দরকার।

পৌর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, ‘যেখানে লাইসেন্স ছাড়া যান্ত্রিক যান চালানো নিষেধ সেখানে প্রকাশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু কিশোররা ব্যটারিচালিত অটোরিকশা এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাচ্ছে। অনভিজ্ঞ এসব শিশু কিশোররা অটোরিকশা চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনার সৃষ্টি করছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এখনই এসব নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

জগন্নাথপুর ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ টি এস আই জহিরুল বলেন, ট্রাফিক আইনে শিশু কিশোরদের কোন শাস্তি দেওয়া যায় না। তবে উপজেলা প্রশাসন বা সমাজসেবার পক্ষ থেকে শিশুদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে।

শিশুদের হাতে যারা অটোরিকশা তুলে দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মালিকরা কাদের হাতে রিকশা তুলে দিচ্ছে সেটা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার কিছু নেই, তবে যদি কোন শিশু অটোরিকশা দিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায় তাহলে ওই মালিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী আইনে মামলা হবে।

জগন্নাথপুর থানার (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি শিশুরা যাতে অবাধে রিকশা চালাতে না পারে। তবে এসব শিশুদের হাতে যে মালিকরা রিকশা তুলে দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা খোঁজ নিয়ে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নিবো।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের আলোচনা করব । আমরা অভিযানে মাঠে নামবো এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবো।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.