Sylhet Today 24 PRINT

প্লাস্টিকের চাঁইয়ের হাওরের সর্বনাশ

তাহিরপুর প্রতিনিধি |  ০১ জুন, ২০২২

নানান কারনেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রামসার সাইট টাগুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এরমধ্যেই হাওরে খুব সহজে বেশি পরিমাণে চিংড়িসহ ছোট মাছ ধরার জন্য অবাধে ব্যবহার হচ্ছে পরিবেশ ধ্বংসাত্মক প্লাস্টিকের চাঁই। এযেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

গত এক যুগের বেশী সময় ধরে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাংগুয়ার হাওরসহ ছোট-বড় ২৩টি হাওরে প্লাস্টিকের চাঁইয়ের অবাধ ব্যবহারের কারনে চরম হুমকির মুখে রয়েছে মাছ ও হাওরের জীববৈচিত্র্য,পরিবেশ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় হাওরগুলো বর্তমানে অরক্ষিত রয়েছে বলে জানান হাওর পাড়ের সচেতন মহল।

টাংগুয়ার হাওর পাড়ের বাসিন্দা শফিক মিয়া জানান, চিংড়ি মাছসহ অন্যান্য মাছ বেশী পরিমানে ধরার জন্য জেলেরা অপচনশীল ও ধংসাতœক প্লাস্টিকের চাঁই ব্যবহার করছে। এচাঁই ব্যবহারের পর নষ্ট হলে হাওরেই ফেলে দিচ্ছে। যা হাওরের জলচর প্রাণীসহ মাছের জন্যও ক্ষতিকর। তা প্রতিরোধ করা না গেলে টাংগুয়ার হাওরসহ উপজেলার প্রতিটি হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাওর পাড়ের একাধিক জেলো জানান, এক যুগ পূর্বে শুধুমাত্র বাঁশের তৈরি চাঁই দিয়েই চিংড়ি মাছ ধরা হত। বর্তমানে প্লাস্টিকের চাঁই দিয়ে সহজে বেশি মাছ ধরা যায় তাই প্লাস্টিকের চাঁই এখন স্থানীয় জেলেদের কাছে অনেকটাই প্রিয় হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের চাঁই গুলো দেখতে গোলাকার। প্লাস্টিক মুড়িয়ে বাঁশের কঞ্চি ও তার দিয়ে এই চাঁই তৈরি করা হয় আর দামেও সস্তা। আর বাশেঁর তৈরী চাঁই দাম বেশী আর মাছ ধরা পড়ে পরিমানে কম।

টাংগুয়ার হাওরসহ উপজেলার শনি, মাটিয়ান, বনুয়ার, পালইর হাওরসহ কয়েকটি হাওরের খোজঁ নিয়ে জানা যায়, খুব সহজে বেশি পরিমাণ চিংড়িসহ ছোট মাছ শিকার হাওরগুলোর চারপাশে ছড়িয়ে ছিঠিয়ে আছে প্লাস্টিকের চাঁই। প্লাস্টিকের চাঁই গুলো সন্ধ্যার পূর্বে হাওর, বিল, নদীনালায় পানির নিচে সারিবদ্ধভাবে সুতো দিয়ে বেধে ময়দার টোপ দিয়ে রেখে দেয়। সকালে এসে চাঁই তুলে এর ভিতর থেকে চিংড়ি ও ছোট মাছ বের করে সেগুলো এমনি ফেলে রেখে দেওয়া হয়। চাঁই গুলো নষ্ট হয়ে গেলে এভাবেই পানির নিচে থেকে যায়।

পর্যটক ও পরিবেশবাদী আল হেলাল বলেন প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্লাস্টিক ব্যবহারের পর যদি হাওরে যত্রতত্র ফেলে রাখে তাহলে হাওরের পরিবশ ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আর জানান,প্লাস্টিক অপচনশীল আর এসব প্লাস্টিকের মাছ ধরার চাঁই পানির নিচে ও জলাশয়ে ফেলে রাখলে মাছসহ জলচর বিভিন্ন প্রাণীর জন্য চরম ক্ষতিকর। এগুলো ব্যবহার রোধে স্থানীয় হাওরবাসীকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরী।

তাহিরপুরের মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন জানান, এই বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করব। মৎস্য ম্পদ রক্ষায় অনিয়মকারী কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রায়হান কবির বলেন,উপজেলা দিয়ে প্লাস্টিকের চাঁই নেওয়ার সময় কিছু চাঁই আটক করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকেই সচেতন হতে হবে। হাওরে প্লাস্টিকের চাঁই যারা ব্যবহার করছে, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে যারা ফেলছে তাদের ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.