Sylhet Today 24 PRINT

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বাড়িতে টাকা পাঠান নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া |  ০৫ জুন, ২০২২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণে নিহত তরুণ শ্রমিক অলিউর রহমান নয়ন মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বিকাশের মাধ্যমে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। ছেলের লাশ আনতে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে রোববার সন্ধ্যায় অলিউরের বাবা আশিক আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে এ কথা জানান। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলি গ্রামে।

আশিক আলী দিনমজুর। তিনি বলেন, চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নয়ন সবার বড়। কাজের সন্ধানে বছরখানেক আগে নয়ন পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে সীতাকুণ্ডে চলে যান। পরে বিএম কনটেইনার ডিপোতে কাজ নেন। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। বাড়িতে পাঁচ-সাত হাজার টাকা পাঠাতেন।

আশিক বলেন, ‘টেকা তোলার পর নয়নরে ফোন দিছি। তার শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নিছি। কইছে, ভালা আছে। বাড়ির সবার খবর নিছে। রাইত পোহাইল না, এর আগেউ ছেলেটা আমরারে ফাঁকি দিয়া চলি গেল।’

শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় গারদ বাজারে একটি দোকানে বিকাশে পাঁচ হাজার টাকা পাঠান নয়ন। ওই টাকা দিয়ে চাল, ডাল, মসলাসহ কিছু জিনিস কিনে বাড়িতে ফেরেন নয়নের বাবা আশিক আলী। তিনি বলেন, সেলিম আহমেদ নামের এলাকার এক বাসিন্দা ঢাকায় সাংবাদিকতা করেন। রোববার সকাল আটটার দিকে প্রথমে তিনিই মুঠোফোনে নয়নের মৃত্যুর খবর জানান। এরপর টেলিভিশনে দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। এর কিছু সময় পর রুয়েল নামের অলিউরের এক সহকর্মী মুঠোফোনে জানান, অলিউরের লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। সেই লাশ আনতেই চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা করছিলেন আগুন থামাতে। বড় এ অগ্নিকাণ্ডের খবর পৌঁছে দিতে অনেককেই তখন দেখা যায় ভিডিও ও ছবি ধারণ করতে। তাদেরই একজন ডিপোর শ্রমিক অলিউর রহমান নয়ন। তিনি দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলের অনেকটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। কিছু সময় কথা বলছিলেন আবার কিছু সময় আগুন নেভানোর দৃশ্য দেখাচ্ছিলেন। তার লাইভের ৪০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় ডিপোর কনটেইনারগুলোতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর মুঠোফোনের ক্যামেরায় সবকিছু অন্ধকার। কেবল শোনা যাচ্ছিল মানুষের আর্তনাদ, ওই বিস্ফোরণে প্রাণ হারান নয়ন।


নিহত অলিউর রহমানের চাচা সুন্দর আলী জানান, আমার ভাতিজা আগুনের ঘটনায় নিখোঁজ ছিলেন। সকালে আমরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
 

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.