নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুন, ২০২২
টিলা কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে টিলা ধস ও মৃত্যু থামানো যাবে না।- সিলেটে পাহাড়টিলা ধস ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দেয়া এক বিবৃতিতে এমনটি বলেছেন সিলেটের পরিবেশ কর্মী ও বিশিষ্টজনেরা।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার সাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়- জরুরী ভিত্তিতে টিলার পাদদেশে বসবাসকারী জনগনের তালিকা করে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, টিলাকাটা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে শাহ শাহেদা ছাড়াও সাক্ষর করেন- সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ মাহমুদ চৌধুরী, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, ব্লাস্ট সিলেট ইউনিটের সমন্বয়ক মোঃ ইরফানুজ্জামান চৌধুরী, আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক, মণিপুরী সাহিত্য সংসদের সভাপতি এ কে শেরাম, সনাক সিলেটের সভাপতি সমিক শহিদ জাহান, বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি, সিলেটের বিভিগীয় প্রধান সৈয়দা শিরীন আক্তার, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ও এডকোর নির্বাহী পরিচালক লক্ষ্মীকান্ত সিংহ।
বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, টিলা-পাহাড় কাটা দিনদিন বেড়েই চলছে। অবৈধভাবে টিলার-পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে যেমন পরিবেশ ও প্রতিবেশগত অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তেমনি ভূমির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে ভূমিধসে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে অতিবর্ষণের সময় জেলার সদর, গোয়াইনঘাট, গোলাপগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলায় টিলাধসের ঘটনা ঘটেছে এবং ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। টিলাধসের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাসমুহ পরিদর্শন করে দেখা গেছে ধসে যাওয়া টিলাগুলো কেটে মাটি অপসারণ করা হয়েছে এবং কর্তনকৃত অংশে বসত ঘর নির্মাণ করে লোকজন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছেন।
উল্লেখ্য যে, সিলেট সিটিকর্পোরেশনসহ সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে টিলা কাটা রোধে বেলা’র দায়েরকৃত রীট আবেদনের প্রেক্ষিতে (রীটপিটিশন নং-৯৭৫০/১১) ২০১২ সালে ০১ মার্চ উচ্চ আদালত পাহাড়/ টিলা কাটা রোধ করে তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং টিলার পাদদেশে বসবাসকারী দরিদ্র জনগনকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
টিলা কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেটিলা ধস ও মৃত্যু থামানো যাবে না।
তাই জরুরী ভিত্তিতে টিলার পাদদেশে বসবাসকারী জনগনের তালিকা করে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে, টিলাকাটা বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন সিলেটের জৈন্তাপুরে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। উপজেলার ৬ নং চিকনাগুল ইউনিয়নের ঠাকুরের মাটি পূর্ব সাতজনি গ্রামে সুউচ্চ টিলার বিশাল আকৃতির একটি অংশ টিলার পাদদেশে একটি বসতঘরকে চাপা দেয়। এতে একই পরিবারের ৪ জন নিহত হন। এছাড়া গত ১৪ মে গোলাপগঞ্জে ১ জনসহ মোট ৫ জনের প্রাণহানী ঘটেছে।