সিলেটটুডে ডেস্ক | ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫
মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সারা দেশে বিনম্র শ্রদ্ধায় মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করেছে সর্বস্তরের মানুষ।
সকাল সাড়ে ৬টার পর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে সেই মুক্তিসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, যারা প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার স্বাধীনতার সূর্য।
তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর।
জাতির যে বীর সন্তানদের আত্মত্যাগে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, কিছুটা সময় নিরবে দাঁড়িয়ে একাত্তরের সেই শহীদদের স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা স্মৃতিসৌধে ফুল দেন।
সিলেটে বিজয়ের প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১) শহীদ মিনারে জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে প্রথমে ফুল দেয় শহীদ মিনার বাস্তবায়ন কমিটি। এরপর একে একে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সিলেট জেলা ও মহানগর, বিএনপি সিলেট জেলা ও মহানগর, জাতীয় পার্টি, জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দল, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফ্রন্ট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ১৯৭১ সালে মুক্তি সংগ্রাম শুরুর পর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স (এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে মুক্তিবাহিনী ও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ডের যৌথ নেতৃত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করেন যুদ্ধে পাকিস্তানকে নেতৃত্ব দেওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী।
একাত্তরে বাঙালি হত্যায় পাকিস্তানি বাহিনীর দোসরদের যারা জড়িত ছিল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তারা চলে যায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
বহু প্রতীক্ষা শেষে চার দশক পর শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় আসার পর একে একে চারজনকে ঝোলানো হয় ফাঁসিতে।
সর্বশেষ গত ২২ নভেম্বর ফাঁসি হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো. মুজাহিদের, যারা বাংলাদেশের মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন।
তাদের ফাঁসির পর এবারের বিজয় দিবস কিছুটা ভিন্ন মাত্রায় পালন করছে বাংলাদেশ।