Sylhet Today 24 PRINT

সিলেট ও সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎহীন ৩ লাখ গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক |  ১৭ জুন, ২০২২

স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে সিলেটের কয়েকটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। সঞ্চালন লাইনও পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে সিলেট ও সুনামগঞ্জের অনেক এলাকা।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রায় তিন লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন।

পানি উঠছে সিলেটের কুমারগাঁওয়ের বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড লাইনের উপকেন্দ্রেও। আরেকটু পানি বাড়লে বন্ধ হয়ে পড়বে এই কেন্দ্র। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বেশির ভাগ এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে শুক্রবার দুপুর থেকে সেনাবাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন সম্মিলিতভাবে এই উপকেন্দ্র চালু রাখতে কাজ করছে। বালির বস্তা ফেলে উপকেন্দ্রে পানি আটকানোর চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রে ঢুকে পড়া পানি সেচ দিয়ে শুকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বাড়িঘরের মিটার পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নগরের উপশহর এলাকায় এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। দক্ষিণ সুরমা ও কোম্পানীগঞ্জ বিদ্যুতের সাবস্টেশনে পানি ওঠায় এই দুই উপজেলা বৃহস্পতিবার থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। এ ছাড়া জৈন্তাপুর, কানাইঘাট উপজেলারও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ নেই।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, সিলেট বিভাগের চার জেলায় পিডিবির প্রায় সাড়ে চার লাখ গ্রাহক আছেন। এর মধ্যে সিলেটের এক লাখ এবং সুনামগঞ্জের ৯০ হাজার গ্রাহক এখন বিদ্যুৎহীন।

সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জেনারেল ম্যানেজার দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী জানিয়েছেন, সমিতির সিলেট-১-এর অধীনে থাকা ৪ লাখ ১৩ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার সঞ্জীব কুমার রায় জানিয়েছেন, সিলেট-২-এর অধীনে থাকা ২ লাখ ১২ হাজার গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অন্তত ৯০ হাজার গ্রাহক।

সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শামছ-ই-আরেফিন বলেন, ‘বন্যার অবনতি হওয়ায় অনেক স্থানেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে না।’

যেসব এলাকায় পানি নেই, সেসব এলাকাতেও বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না সিলেটের কোথাও।

নগরের টিলাগড় এলাকার আশরাফ আহমদ বলেন, ‘আমাদের এই দিকে বন্যার পানি নেই। তবু সারা দিন বিদ্যুৎ ছিল না। বিকেলে এলেও সন্ধ্যার পর আবার চলে যায়।’

একই সমস্যার কথা জানিয়ে নগরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সৌরভ দাশ বলেন, ‘(শুক্রবার) দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ গিয়েছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত আসেনি।’

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুল কাদির বলেন, ‘অনেক এলাকায় বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন তলিয়ে গেছে। কিছু সাবস্টেশন ডুবে গেছে। এতে ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ঝুঁকি বিবেচনায় আরও কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

‘নগরের কুমারগাঁও ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্রের ভেতর বন্যার পানি ঢুকেছে। নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ছুঁইছুঁই করছে বন্যার পানি। ভেতরে পানি ঢুকলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সংকট আরও বাড়বে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি এই কেন্দ্র চালু রাখার জন্য।’

বিদ্যুৎহীন এলাকায় মোমবাতি ও কেরোসিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় বেড়ে গেছে দামও।

নগরের মিরাবাজার এলাকার নাহিদ হাসান বলেন, ‘সন্ধ্যায় পুরো মিরাবাজার এলাকা ঘুরেও মোমবাতি পাইনি। জিন্দাবাজার এসে মোমবাতি পেলেও ৫ টাকার মোমবাতি ৮ টাকা দামে কিনতে হয়েছে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ [email protected] ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.