Sylhet Today 24 PRINT

তাহিরপুরে আশ্রয় কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন

তাহিরপুর প্রতিনিধি: |  ২১ জুন, ২০২২

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ভিটেমাটি ছেড়ে আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সাতটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। ফলে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে তিলধারণের জায়গা নেই। নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষে-পশুতে একাকার। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এসব মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। উপজেলায় যে পরিমান মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে তার চেয়ে সরকারের বরাদ্দ একেবারেই কম।

উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও বন্যা আক্রান্ত পরিবার গুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলার বেশির ভাগ আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি নেই। অনেকেই আবার না খেয়ে আছেন। মানুষজন ত্রাণসামগ্রীর জন্য দাঁড়িয়ে আছেন। হাওর পাড়ে যে কোনো ধরনের নৌকা দেখলেই বন্যার ক্ষতিগ্রস্থরা ত্রাণের আশায় দৌড়ে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে কোনো কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের এতটাই গাদাগাদি যে শ্বাস ফেলার জায়গাটুকুও নেই। খাওয়ার পানি নেই, খাবার নেই। এর মধ্যে প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি ছেড়ে মানুষজন এসব আশ্রয় কেন্দ্রে উঠছেন। অসুস্থ মানুষ শুয়ে আছেন চিকিৎসাসেবা তো দূরের কথা, এক বেলা খাবার নিয়েও দুশ্চিন্তা করতে হচ্ছে তাদের।

আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সরকার কিংবা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে যতটুকু ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতি, খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছে। শুকনো খড় পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষের পাশাপাশি গোখাদ্য সংকটও তীব্র হয়েছে কৃষক পরিবার গুলোতে।

সাদেক আলী, শফিকুল ইসলাম, তোজাম্মিল হক নাসরুমসহ অনেকেই বলেন, প্রতিটি পাকা বাড়িই একেকটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে আশ্রয় কেন্দ্রে মোমবাতি, খাদ্য ও নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছে উপজেলাবাসী। দুদিন ধরে বন্যা পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হচ্ছে তবে খুব ধীর গতিতে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকৌশলী আল আমিন জানিয়েছেন, অফিস থেকে মোবাইল ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বন্যাকবলিতদের মাঝে বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে।

বন্যাকবলিতদের সহায়তায় সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান কবির। তিনি আরও বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের ও পুলিশ কাজ করছে। উপজেলায় ৩০টি আশ্রয়কেন্দ্রসহ উঁচু বাসাবাড়িতে মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার বরাদ্দ ও রান্না করা খাবার বিতরন করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুর জানান, প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে ও বন্যায় আক্রান্ত পরিবার গুলোতে সর্বোচ্ছ সহায়তা দেয়া অব্যাহত আছে।

উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পাশাপাশি এই দুর্যোগের সময় সবাইকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যায় আক্রান্তদের পাশে সহায়তা হাত বাড়াতে আহবান জানান তিনি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.