Sylhet Today 24 PRINT

শান্তিগঞ্জে এখনো জমে উঠেনি পশুর হাট

ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কা ইজারাদারদের

ইয়াকুব শাহরিয়ার, শান্তিগঞ্জ: |  ০৪ জুলাই, ২০২২

১০ জুলাই পবিত্র ঈদ উল আযহা। অন্যান্য বছর মাসখানেক সময় হাতে থাকতেই জমজমাট হয়ে উঠতো কুরবানির পশুর হাট। এ বছর তেমনটি তো হয়ই নি বরং ঈদের আর মাত্র ৫দিন বাকী থাকলেও শান্তিগঞ্জ উপজেলার দু’টি পশুর হাটে এখনো বাজার জমে উঠেনি। এর কারণ হিসেবে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিকেই দায়ী করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।

এতে ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন বাজার ইজারাদাররা। এছাড়াও ভমবমি ও পাথারিয়া গরুর বাজারের মূল অংশে এখনো কাদা রয়ে গেছে। ভমবমি বাজারে গরু উঠানো হয়েছে রাস্তায় ও বাজারের আশে পাশে। পাথারিয়ার গরুর বাজারেও আছে প্রচুর কাদা। এতে দুর্ভোগ হবে ক্রেতা বিক্রেতাদের। তবে পাথারিয়ায় গরুর শেষ বাজার আজ (মঙ্গলবার)। ভমবমিতে শুক্রবারে বসবে শেষ বাজার। শেষ বাজারে কিছুটা বিক্রি বাড়ার আশা করেছেন গরুর বাজার নিয়ন্ত্রকেরা।

কুরবানির হাটের ক্রেতা-বিক্রেতা ও ইজারাদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দরগাপাশা ইউনিয়নের  ভমবমি বাজার ও পাথারিয়া বাজারে বসে গরু-ছাগলের হাট। কেউ কেউ অন্যান্য বাজার থেকে কুরবানির গরু কিনলেও সাধারণত উপজেলার বেশিরভাগ ক্রেতারা এই দুই বাজার থেকেই কুরবানির গরুর চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। এ বছর খুব কম সংখ্যক ক্রেতারা হাটে আসছেন গরু কিনতে। তাছাড়া বাজারে বিক্রেতার সংখ্যাও একেবারেই কম। অন্যান্য বছর এমন সময় বাজারগুলোতে ২৫/৩০টি কিংবা তারচেয়ে বেশি নৌকা বোঝাই গরু হাটে উঠতো বিক্রির জন্য। এবছর এমন সময়ে আছে মাত্র দেড়শ-দুশো গরু। এটি অনেক বেশি হতাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইজারাদারদের কাছে।

তারা জানান, সম্প্রতি যে বন্যা হয়ে গেলো তাতে অনেক মানুষের ক্ষতি হয়েছে। যারা কুরবানির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাদের বেশিরভাগেই ত্রান সামগ্রী বিতরণ করে এখন কুরবানি থেকে পিচিয়ে পড়েছেন। এছাড়া বন্যার কারণে কৃষকেরা প্রায় দিশেহারা। গরুর খাদ্য না পাওয়ায় কম দাম নিজের বাড়ি কিংবা স্থানীয় বাজারেই গরু বিক্রি করে ফেলছেন। অনেকে ক্রেতারাই সেভাবে গরু কিনছেন। এক কথায় বন্যার কারণে ইজারাদার ও গরু ব্যবসায়ীদের বিশাল ক্ষতি হয়েছে।

গরু কিনতে সিলেট উপশহর এলাকা থেকে সোমবার পাথারিয়া বাজারে আসেন ইয়াছির আরাফাত ও তার বড় বোন। পছন্দমতো গরু না পাওয়ায় শ্রীমতি বাজারে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি। দিরাইর রাস্তার মুখে (মদনপুর) তাদের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, পাথারিয়া গরুর বাজারের অনেক সুনাম শুনে এসেছি। গরু কম উঠেছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অনেক গরু আছে এ বাজারে। আমরা আরেকটু বড় গরু কিনবো। শ্রীমতি বাজারে যাবো ভাবছি।

ভমবমি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহীন আহমদ তালুকদার ও কোষাধ্যক্ষ সিতু মিয়া জানান, বাজার পরিচালনা কমিটিই গরুর বাজার ইজারা এনেছেন। এমন সময় অন্যান্য বছর ২৫/৩০ নৌকা বোঝাই করে গরু বাজারে নামতো। ট্রাকেও আসতো। এ বছর গত বাজারে (শুক্রবার) এক-দেড়শো গরু উঠেছিলো মাত্র। আজ (সোমবার) একবাজার আর সামনের শুক্রবার শেষ বাজার। জানিনা কি হবে। এবছর লাভ হবে তো দূরের কথা মনে হচ্ছে আসলও তুলতে পারবো না।

একই ধরণের কথা বলেছেন পাথারিয়া বাজারের গরু-ছাগলের হাট ইজারাদার মো. আবদুল মোনিম। তিনি বলেন, এবছর আমার সব ক্ষতি। বাজারে গরু নেই, ক্রেতা নেই। আমার প্রচুর ক্ষতি হবে এবছর। পানির কারণেই এতো ক্ষতি। এখনো গরুর হাটে কাদা রয়ে গেছে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.