Sylhet Today 24 PRINT

বিদ্যুৎ সমস্যা ও লবণের ঊর্ধ্বমূল্য, নষ্ট চামড়া নদীর জলে আর মাটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: |  ১৩ জুলাই, ২০২২

বালিকান্দি এলাকায় কোরবানির পশুর নষ্ট চামড়া মনু নদীতে ফেলার জন্য নৌকায় তোলা হয়। ছবি: সংগৃহীত

ঈদকেন্দ্রিক এক সময়ের রমরমা চামড়া ব্যবসায় এখন দুর্দিন চলছে। কোরবানির পশুর চামড়া এখন মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়েছে। উপযুক্ত দামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকেই হতাশ হয়েছেন। এতে বাধ্য হয়ে কেউ মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, কেউ আবার নদীতে ফেলে দিয়েছেন।

এদিকে লবণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নষ্ট হয়েছে হাজারো কোরবানির পশুর চামড়া। ফলে লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করেন বালিকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, এবার ১০ হাজার চামড়া লবণজাত করেছেন তারা। তবে অনেক চামড়া বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ছাড়া লবণের অতিরিক্ত দামের কারণে অনেক ব্যবসায়ী চামড়া সংরক্ষণ করতে পারেননি। প্রচুর চামড়া নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঈদের পরের দিন সোমবার সেগুলো তারা ফেলে দেন মনু নদে।

বালিকান্দি গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী সুলেমান মিয়া বলেন, ‘এ বছর ২০০ থেকে ৭৫০ টাকা মূল্যে প্রায় তিন হাজার চামড়া কিনেছি। বিদ্যুৎ সমস্যা ও লবণের বেশি দামের কারণে চামড়ায় লবণ দিতে না পারায় অনেক চামড়া নষ্ট হয়েছে।’

বালিকান্দি চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত মেম্বার বলেন, ‘একেকটি চামড়ায় ৪-৭ কেজি পর্যন্ত লবণ দেওয়া লাগে। ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকার লবণের বস্তা এখন ৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একদিকে চামড়া কেনার প্রতি ট্যানারি মালিকদের আগ্রহ কম, অন্যদিকে লবণের দাম বেশি থাকা ও বিদ্যুৎ সমস্যায় সব চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে না পারায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মিটিংয়ের সময় ঋণ সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে লবণপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো দাবিরই বাস্তবায়ন হয়নি। এতে সব মিলিয়ে হাজারের বেশি চামড়া নষ্ট হয়েছে।’

সদর উপজেলার বাহারমর্দান গ্রামের জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, ‘গত দুই বছর কোরবানির চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিচাপা দিতে হচ্ছে। অনেকে আবার মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনালের কাছে চামড়া ফেলে দিয়ে গেছে। পরে এসব চামড়া তুলে নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ডাম্পিং স্টেশনে মাটিচাপা দিয়েছে।’

জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসার সুপার মৌলানা জামিল আহমদ আনছারী বলেন, ‘৫০০ চামড়া সংগ্রহ করে বালিকান্দির হাফিজ আনোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করেছি। তিনি নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। প্রতি চামড়ার মূল্য ৪৮০ টাকা হিসেবে বাকি টাকা পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এত কম দাম দেখে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়েছেন নদীতে।’

এদিকে শত শত চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ায় এর পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও সামনে চলে এসেছে। গত কয়েক বছর এভাবে নদীতে চামড়া ফেললেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন নজরদারি নেই এ ব্যাপারে।

পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, ‘এভাবে পানিতে চামড়া ফেলা হলে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লবণের উচ্চমূল্য সম্পর্কে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায়ীসহ সব ভোক্তা যাতে ন্যায্যমূল্যে লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে পারেন, এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

‘এতে অতিরিক্ত দামে কোনো ব্যবসায়ীর লবণ বিক্রির সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাইনের সমস্যার কারণে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সময়ের জন্য হয়তো বিদ্যুৎ ছিল না। কিন্তু মোটের ওপর সব সময় বিদ্যুৎ লাইন সচল ছিল।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.