Sylhet Today 24 PRINT

দুই শিক্ষকের উদ্যোগে বানভাসি শিক্ষার্থীরা পেল পাঠের সুযোগ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায়

রিপন দাস, বড়লেখা: |  ১৫ জুলাই, ২০২২

আশ্রয়কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন বড়লেখার দাসের বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস ও সহকারী শিক্ষক হাসেম আলী।

বসতঘরে বন্যায় কোমরসমান পানি। ঘরে পানি ঢুকে মূল্যবান মালামালের সঙ্গে ভেসে গেছে শিক্ষার্থীদের বই, খাতা-কলম। পানিতে বাড়িঘরে থাকা দায়। এমন পরিস্থিতিতে খালি হাতেই ঘর থেকে বের হয়ে পরিবারগুলো ঠাঁই নেয় আশ্রয়কেন্দ্রে। সেখানে মা-বাবার সঙ্গে আছে তাদের স্কুল ও কলেজপড়ুয়া সন্তানেরাও। আশ্রয়কেন্দ্রে যেখানে পরিবারগুলোর দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা করাটাই কষ্টের, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনা করার চিন্তা করা অকল্পনীয়।

তবে এই শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া যাতে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মৌলভীবাজারের বড়লেখায় দুজন শিক্ষক।

তারা হলেন- উপজেলার দাসেরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস ও তার সহযোগী সহকারী শিক্ষক মো. হাসেম আলী।

তারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও আশ্রয়কেন্দ্রে মা-বাবার সঙ্গে থাকা বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন। শুধু তাই নয়, তাদের বিনামূল্যে বই, খাতা, কলমও কিনে দিয়েছেন। এমন উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা শিশুদের পাশপাশি তাদের অভিভাবকরাও খুশি।

সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ জুন ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বড়লেখায় ২০০ গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে মানুষজন পরিবার নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেন। এরমধ্যে দাসেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে বিভিন্ন গ্রাম থেকে ৫৪টি পরিবার উঠে। এসব পরিবারের কোমলমতি শিশুরাও আছে। আশ্রয়কেন্দ্রে শিশুরা একরকম বন্দি সময় কাটাচ্ছিলো। এই অবস্থায় শিশুদের মনে যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেজন্য কিছু একটা করার তাগিদ অনুভব করেন দাসেরবাজার উচ্চ বিদ্যালেয়র প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন। তিনি তাদের পাঠদানের উদ্যোগ নেন।

গত ২২ জুন থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলে পাঠদান। আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২৪ জন শিক্ষার্থী আছে। প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস পড়ান ইংরেজি এবং সহকারী শিক্ষক হাসেম আলী পড়ান গণিত ও বিজ্ঞান। শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই এই পাঠদানকে তারা আটকে রাখছেন না। গানসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আবুল হোসেন বলেন, বন্যায় স্কুল বন্ধ থাকায় সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছিল। দীপক স্যার ও হাসেম স্যার বিনা পয়সায় আমাদের সন্তানদের পড়াচ্ছেন। বই-খাতা কিনে দিয়েছেন। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

দাসেরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক রঞ্জন দাস বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৫৪ পরিবার আশ্রয় নেয়। এসব পরিবারে শিক্ষার্থীও আছে। তাদের সবারই বইপত্র পানিতে ভেসে গেছে। এতে তাদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় অনেকে ঝরে পড়তে পারে। আমি সারাদিন বিদ্যালয়ে থেকে তাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখি। তাই শিশুদের পাঠদানের উদ্যোগ নিই। বই-খাতা কিনে দিয়েছি। আমি আর আমার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাসেম আলী মিলে তাদের ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াচ্ছি। এতে শিশুরাও খুশি। তাদের পরিবারও খুশি।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.