নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৫
কানাইঘাট এলাকার লোকজন ‘পাগল’ বলেই ভর্ৎসনা করতো তাঁকে। কপালে জুটত সীমাহীন নিগ্রহ আর অত্যাচার। ঘুরে বেড়াতেন রাস্তাঘাটে, অলিগলিতে। ‘পাগল’ বলে তার উপর ঢিল ছুঁড়তও বখাটেরা।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভবঘুরে আইনে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় গিল্লি বেগম ওরফে ইদু’র মাকে আটক করে কানাইঘাট থানা পুলিশ। স্বজনদের খোঁজ না মেলায় তাঁর ঠাই হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেই থেকেই তিনি বন্দি আছেন সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে।
তিন বছর ধরেই কাটছে তাঁর অনিশ্চিত প্রহর। সিলেট কারা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় মানসিক অসুস্থতা অনেকটা কাটিয়ে উঠলেও এখনো স্পষ্ট করে বলতে পারেননা স্বজনদের কথা। এমনকি খোঁজ মেলেনি তার কোনো জামিনদার কিংবা আত্মিয় স্বজনেরও। সে কারণে মুক্তি মিলছে না তাঁর।
কেউ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে আধো আধো শব্দে অস্পষ্ট উচ্চারণ ষাটোর্ধ গিল্লি বেগমের। বিস্মৃত হয়ে গেছে স্বামী সন্তানের খোঁজ। কখনো আনমনেই বলে যান অতীতের টুকরো কষ্টের কথা। কিন্তু তাতে তাঁর পরিচয়ের ব্যাপারটি স্পষ্ট হয় না।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ: ছগির মিয়া জানান, কারা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ গিল্লি বেগমেকে ওসমানী হাসপাতাল ও পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন। এতে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজন অধিকতর চিকিৎসা।
গিল্লি বেগমের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থাসহ অনেকেই। এডভোকেট জাহানারা বেগম সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গিল্লি বেগমের মুক্তির জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধার কোনো জামিনদার কিংবা আত্মীয় স্বজন খুঁজে না পাওয়াতে কারা হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে তাকে। তবে, স্বজন কিংবা উপযুক্ত জামিনদার পেলে তাকে আদালত মুক্তি দেবেন।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাসুদ পারভেজ মইন জানান, অনেকের সাথেই কারা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করছেন। মাঝে মধ্যে অনেকেই স্বজনদের খোঁজ নিতে আসেন। কিন্তু গিল্লি বেগমকে কেউ সনাক্ত করেনি। অসহায় বৃদ্ধার স্বজনদের ফিরে পেতে তাই সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন আইনজীবী ও কারা কর্তৃপক্ষ।