Sylhet Today 24 PRINT

কুলাউড়ায় সুরঞ্জিত হত্যা: ১১ আসামির ১০ জনই অধরা

কুলাউড়া প্রতিনিধি  |  ২১ জুলাই, ২০২২

কুলাউড়া উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নে সুরঞ্জিত বিশ্বাস (১৯) হত্যাকান্ডের একমাস ১২ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার সাথে জড়িত ১১ আসামির ১০ জনই পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। উল্টো স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল আপোষ নিষ্পত্তি ও মামলা তুলে নেয়ার জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি ধামকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পিতা-মাতা।

আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত সুরঞ্জিতের পিতা সুধাংশু বিশ্বাস ও মা সাবিত্রী বিশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে হারিয়ে সুরঞ্জিতের মায়ের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে।

লিখিত বক্তব্যে সুধাংশু বিশ্বাস অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন শ্রীপুর গ্রামের কালিমন্দিরে শীতলি পুজার আয়োজন করা হয় স্থানীয় কালী বাড়ি মন্দিরে। কিন্তু নান্টু বিশ^াস, রসেন্দ্র বিশ্বাস, রনজিত বিশ্বাস ও তাদের সহযোগিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পূজা বন্ধে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলায় নারী পুরুষসহ ১০ জন আহত হয়। এরমধ্যে সুরঞ্জিত বিশ্বাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার পরদিন ০৮ জুন মারা যায়। ঘটনার আরেকদিন পর অর্থাৎ ৯ জুন কুলাউড়া থানা ১১ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামীদের মধ্যে পুলিশ নান্টু বিশ্বাস নামক একজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু ঘটনার পর থেকে আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ রহস্যময় কারণে তাদের গ্রেপ্তার করছে না।

সুধাংশু অভিযোগ করে আরো বলেন, আমাদের ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছয়ফুল ইসলামসহ একটি প্রভাবশালী মহল মামলা আপোষ নিষ্পত্তি করতে ও তুলে নিতে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করছেন। ইতোমধ্যে জোরপূর্বক ১৩ ইঞ্চি স্টাম্পে আমাদের স্বাক্ষর নেন। এ ঘটনায় সুধাংশু বিশ্বাস মৌলভীবাজার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ১৫৮ তারিখ ১৩/০৭/২২) দায়ের করেন।

এসময় নিহত সুরঞ্জিতের মা সাবিত্রী বিশ্বাস কান্নাজড়ি কন্ঠে বলেন, আমার স্বামী হাওরে মাছ ধরে বিক্রি করে পরিবারের ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খেতেন। আমার ছেলে সুরঞ্জিত রাজমিস্ত্রী (পাকা কাজের) হেলপার (সহযোগি) ছিলো। তার রোজগারে পরিবারে কিছুটা অভাব দূর হতো। পুজো করতে গিয়ে আক্রোশের শিকার হয়ে আমার নরপরাধ ছেলেটি মারা গেলো। ছেলেকে হারিয়েছি, কিন্তু স্বামী ও ছোট ছেলেকে হারাতে চাই না। আসামীরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। আমি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ন্যায় বিচার চাই। আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য ছয়ফুল ইসলাম জানান, ঘটনা যেদিন ঘটে সেদিন থানা প্রাঙ্গণের সামনে বসে বর্তমান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে বিষয়টি আপোষ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরদিন ছেলেটি মারা গেলে থানায় মামলা হয়। পরবর্তীতে এই ঘটনার সাথে আমাদের আর কোন সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু নিহত সুরঞ্জিতে পিতা সুধাংশু আমিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার উপ পরিদর্শক শাহ আলম জানান, সুরঞ্জিত হত্যার ঘটনায় নান্টু বিশ্বাস নামক একজনকে ওইসময় গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত এখনো হচ্ছে। তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এজহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে বিলম্বের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্যার কারণে গ্রেপ্তারে বিলম্ব হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত আছে। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.