Sylhet Today 24 PRINT

লোডশেডিং: কমলগঞ্জে বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ ঘন্টা, অতিষ্ঠ জনজীবন

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: |  ২১ জুলাই, ২০২২

প্রতীকী ছবি

সরকারি নির্দেশনায় সার দেশে আনুপাতিক হারে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং চলছে। এক ঘন্টা পর এক ঘন্টা করে লোডশেডিং- এ উপজেলার ৬৮ হাজার গ্রাহকের সাথে কলকারখানা, ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্য সেবায় চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে। দিনের বেলা লোডশেডিং হলেও রাতের দিকে লোডশেডিং- এ সাধারণ মানুষজন সহ্য করতে পারছেন না। অপরদিকে লোডশেডিংয়ের রুটিন (সময়সূচি) মানা হচ্ছে না গ্রাম অঞ্চলে।

চিকিৎসক আব্দুল মোত্তাকীন, সুজা মেমোরিয়াল কলেজের প্রভাষক শাহজাহান মানিক, হাজী মো. উস্তওয়ার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সালাহউদ্দীন তফাদার বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটে এর আগেও লোডশেডিং করা হতো। তবে এবার প্রচন্ড গরমের সময় অধিক মাত্রায় লোডশেডিং হচ্ছে। সকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত দিনে রাতে ২৪ ঘন্টায় একঘন্টা, দু’ঘন্টা অন্তর করে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং করা হচ্ছে।

‘এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানায় দুর্ভোগ ও বাসাবাড়িতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার খুবই কষ্ট হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জে চাহিদার তুলনায় যে বিদ্যুৎ পাচ্ছে তাতে আনুপাতিক হারে ২৪ ঘন্টায় ৪ থেকে ৫ ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া যেত বলে তারা মন্তব্য করেন।’

এসএসসি পরীক্ষার্থী ফজলুর রহমান, প্রীতি রানী নাথ, ফারহানা রহমান বলেন, এত বেশি লোডশেডিং এ স্বাভাবিকভাবে পড়াশুনা করা যাচ্ছে না। টিভিতে নিউজে দেখেছে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছেন সর্বোচ্চ দু’তিন ঘন্টা লোডশেডিং হবে। তা হলে কমলগঞ্জে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে?

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হচ্ছে। তবে এভাবে ঘনঘন লোডশেডিং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।’

সোনালী ব্যাংক শমশেরনগর শাখা ব্যবস্থাপক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রিপন মজুমদার বলেন, ‘বিদ্যুৎ লোডশেডিং স্বাভাবিক ব্যাংক সেবা বিঘ্নিত করছে। এখন প্রতিদিন জেনারেটারে গড়ে ১ হাজার টাকার তেল পুড়িয়ে ব্যাংক সেবা স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে।’

শমশেরনগর ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ বলেন, ‘কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে উপজেলার জনগুরত্বপূর্ণ এলাকা শমশেরনগরে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে জনসাধরণকে।’

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘কমলগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ গ্রাহক হচ্ছেন ৬৮ হাজার। ৬৮ হাজারে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১৫ মেগাওয়াট। আর রাতে চাহিদা ১৯ মেগাওয়াট। বর্তমানে কমলগঞ্জে দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় মাত্র ৫ মেগাওয়াট আর রাতে ১০ মেগাওয়াট। কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের অধীন তিনটি সাব স্টেশন আছে। তিনটি সাব স্টেশনে ৩টি ফিডারে এক ঘন্টা অন্তর লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কমলগঞ্জে চাহিদার চেয়ে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পেলে লোডশেডিং অনেক কমে যেত বলে এ আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্র জানায়।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ মহা ব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মীর গোলাম ফারুক বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা ও তাদের চাহিদার তুলনায় যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে এভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এখানে স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই। তিনি আশাবাদি আগামীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে আর তখন থেকে লোডশেডিংও কমে যাবে।’

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.