নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫
হবিগঞ্জের ডানকান ব্রাদার্সের চুনারুঘাটস্থ চান্দপুর চা বাগানের ধানি জমিতে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে রোববার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট ভ্যালী।
মানবন্ধনে চা শ্রমিকরা বলেন তাঁদের ধানী জমি কেড়ে নিলে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। চা শ্রমিকরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন অন্যথায় তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।
মানববন্ধনে দুই শতাধীক চা-শ্রমিক অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানান। এই সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে দেশের সমস্ত চা-শ্রমিকরা আন্দোলনে নামারও হুমকি দেন।
১৮৯০ সাল থেকে বংশপরম্পরায় ভোগ করে আসা এ জমি ছাড়তে চাইছেন না চা শ্রমিকরা। এর প্রতিবাদে ঐ এলাকায় কাজ বন্ধ রেখে কয়েকদিন থেকেই বিক্ষোভ করছেন চা শ্রমিকরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রায় ১৬ হাজার চা শ্রমিক পরিবার এখনো আতঙ্কে রয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসন নীরবে স্পেসাল ইকোনমিক জোন করার প্রকৃয়া অব্যাহত রাখছে। চা বাগানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি করছে। তাঁরা চা-বাগানের রাস্তা দিয়ে চলাচল করার সাহস পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন, সিলেট ভ্যালী শাখা ’র সভাপতি রাজু গোয়ালার সভাপতিত্বে ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রনব জ্যোতি পাল, সদস্য, সিলেট জেলা বাসদ। চা শ্রমিক সন্তান যতিন বাকতী’র পরিচালনায় বক্তারা চানপুর চা বাগানের চা শ্রমিকদের ভোগ দখলীয় তিন ফসলী ধানী জমি ও বসত ভিটায় স্পেসাল ইকোনমিক জোন বাতিল করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি বক্তব্যে ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সভাপতি, সনাক সিলেট বলেন, সরকার স্পেসাল ইকোনমিক জোন করুক এটা আমরা চাই। কিন্তু চা শ্রমিকদের ১৫০ বছরের ভোগ দখলীয় তিন ফসলী ধানী জমি ও বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে নই। তিনি এর প্রতিবাদ ঞ্জাপন করেন।
চা শ্রমকি রবি ওরাওঁ বলনে, ‘ হামার মাটি হামার মা, ছিনে লিতে দিব না। এখানে র্অথনতৈকি অঞ্চল আমরা চাই না।’
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সভাপতি, সনাক সিলেট, এড. আনোয়ার হোসেন সুমন, সাধারন সম্পাদক, সিপিবি সিলেট জেলা, বিলাস ব্যানার্জি, সভাপতি, বড়জান চা কারখানা পঞ্চায়েত কমিটি, ্সুজিত বাড়াইক, সাধারন সম্পাদক, সিলেট চা জনগোষ্টি ছাত্র-যুব কল্যাণ পরিষদ, দুলন কর্মকার, সাবেক ইউপি মেম্বার, জিতেন সবর, সভাপতি, মালনীছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, মনি বেগম, সুশান্ত চাষা, মদন গঞ্জু, সভাপতি, হিলুয়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি,ধরণী দাস, সভাপতি, কেওয়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, সিতু লোহার, সভাপতি, লাক্কাতুরা চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি, মিন্টু দাস, সভাপতি, দলদলী চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটি প্রমুখ।
পুরনো ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় ৩ হাজার ৯৫১ একর জমির ওপর চান্দপুর বাগান। বাগানের মধ্যে চাষাবাদের জন্য নির্ধারিত এ জমি ক্ষেতল্যান্ড নামে পরিচিত। বাগানের মোট ৯৮৫ একর ক্ষেতল্যান্ডের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য ৫১১ একর বেজার অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বাগানে মোট ১ হাজার ৯৫৫ জন শ্রমিক রয়েছেন। এর মধ্যে স্থায়ী শ্রমিক ১ হাজার ৬৫৫ ও অস্থায়ী শ্রমিক ৩০০ জন। শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যসহ বাগানে বসবাসরত মোট জনসংখ্যা ৮ হাজার ৮৩৩। এর মধ্যে যারা বাগানে কাজ করেন, তারা শুধু দৈনিক ৮৫ টাকা করে মজুরি পেয়ে থাকেন। যাদের বাগানে কাজ নেই, তারা এ জমির ওপর নির্ভরশীল। ইজারা অনুযায়ী, বাগান কর্তৃপক্ষের মালিকানা থাকলেও বংশপরম্পরায় এসব জমিতে শ্রমিকরাই চাষাবাদ করেন।