Sylhet Today 24 PRINT

মার লিমিটেডের বিরুদ্ধে রিজওয়ানার পরিবেশ দূষণের অভিযোগ

সিলেটটুডে ডেস্ক |  ২০ ডিসেম্বর, ২০১৫

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি  (বেলা)'র নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, "পরিবেশবাদীদের মতামত ছাড়া কারখানা চালুর ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া কোন কারখানা চালু করা যাবে না"।
 
রোববার (২০ ডিসেম্বর) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের একতিয়ারপুরে মার লিমিটেড কারখানা কর্তৃক দূষিত বর্জ্য পরিদর্শন শেষে সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির  (বেলা) যৌথ দল  বেলা’র নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও বাপা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক  শরীফ জামিল এর নেতৃত্বে সকাল ১০.০০ টায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের একতিয়ারপুর গ্রামসহ অন্যান্য কয়েকটি গ্রাম পরিদর্শন করেন ও এক সভায় মিলিত হন।

রিজওয়ানা অভিযোগ করে বলেন, "মার লিমিটেড কারখানা কর্তৃক দূষিত বর্জ্য খালে ছড়িয়ে দেওয়ায় গত তিন বছর যাবৎ অসহনীয় দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় প্রায় ৩০/৪০টি গ্রামের বাসিন্দারা, যা মেনে নেয়া যায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত উৎসে বর্জ্য পরিশোধনাগার শতভাগ নিশ্চিত না হবে এবং বিশেষজ্ঞ, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও পরিবেশবাদীদের মতামত ছাড়া কারখানা চালুর ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।"



এখন পর্যন্ত সরকারী যতগুলো রিপোর্ট রয়েছে তা জনগণের পক্ষে, তাই ভয়কে উপেক্ষা করে গ্রামবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। তিনি গ্রামবাসীর নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

পরিদর্শনকালে একতিয়ারপুর খালের দূষণ, গবাদিপশু ও হাস-মুরগী মরে পড়ে থাকতে দেখতে পান। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসী পরিদর্শন প্রতিনিধিদলকে জানান, মার লিমিটেড কারখানা স্থাপিত হওয়ার পর  গত তিন বছর যাবৎ এলাকায় ব্যাপক মানবিক ও পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। একতিয়ারপুর খালের মাধ্যমে কারখানার দুষিত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ার ফলে কৃষি কাজ, মৎস্য আহরণসহ বিভিন্ন পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ শতাধিক হাস-মুরগী ও দুই শতাধিক গবাদিপশু মারা গেছে এবং খালসহ আশপাশের হাওড়গুলো মৎসশুন্য হয়ে পড়েছে। এছাড়াও চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল স্বাস্থ্যগত সমস্যায় গ্রামবাসী আক্রান্ত হচ্ছেন।

বাপা’ হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি অধ্যাপক ইকরামুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে এবং হবিগঞ্জ শাখা’র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল এর সঞ্চালনায় সমাবেশে সহস্রাধিক গ্রামবাসী অংশ গ্রহণ করেন।


 বাপা’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, মার লিমিটেড এর বিষয়ে বাপা’র বিভিন্ন সভা হয়েছে, বাপা’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রশাসনের কয়েকটি সভায় উৎসে পরিশোধনাগার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মার লিমিটেড বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এসকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিগত তিনবছর যাবৎ কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে কারখানার দূষণে আজ ব্যাপক পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন,  "সম্প্রতি ঘটনার পর আমরা বাপা’র পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এর সাথে সভা ও এলাকা পরিদর্শনসহ কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথেও আলোচনা করেছি। এসকল আলোচনায় বর্জ্য পরিশোধনাগার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কারখানা বন্ধ এবং গ্রামবাসীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের  প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। আমরা চাই, বর্জ্য পরিশোধনাগার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে হবে এবং গ্রামবাসীর নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে; খালটি সংস্কার করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ দীর্ঘদিন চলমান দূষণে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি হবিগঞ্জে চলমান অপরিকল্পিত শিল্পায়ন যাতে ভবিষ্যতে পরিবেশ বিপর্যয় সৃষ্টি না হয় তা এখনই গুরুত্বের সাথে নজর রাখতে হবে ও পদক্ষেপ নিতে হবে।"  

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন বাপা হবিগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, বাপা হবিগঞ্জ শাখার কোষাধ্যক্ষ ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব সোয়েব চৌধুরী, বাপা সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম, ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব খায়রুল হোসেন মনু ও শহীদুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

টুডে মিডিয়া গ্রুপ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
✉ sylhettoday24@gmail.com ☎ ৮৮ ০১৭ ১৪৩৪ ৯৩৯৩
৭/ডি-১ (৭ম তলা), ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি,
জিন্দাবাজার, সিলেট - ৩১০০, বাংলাদেশ।
Developed By - IT Lab Solutions Ltd.