নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ আগস্ট, ২০২২
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ড. একে আবদুল মোমেনের একটি বক্তব্য নিয়ে দুদিন ধরেই তোলপাড় চলছে দেশে। চলছে সমালোচনাও। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন দলের কেউ নন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কমিটিতেই আছেন ড. একে আবুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে শুভ জন্মাষ্টমীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমি ভারতকে বলে এসেছি, আওয়ামী লীগ সরকারের টিকিয়ে রাখতে যা যা করা দরকার সেসব করুন।’
শনিবার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্ট স্মরণে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির অনুষ্ঠান শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানকে। তাতেই 'পররাষ্ট্রমন্ত্রী আওয়ামী লীগের কেউ নন বলে' জানান আব্দুর রহমান।
পরে এবিষয়ে আলাপকালে আব্দুর রহমান বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। দলে তার কোনো পদ-পদবিও নেই। তিনি সরকারের মন্ত্রী। কাজেই তিনি যা বলবেন সেটা কোনোভাবেই দলের বক্তব্য হতে পারে না।’
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটিতে রয়েছেন ড. একে আবুল মোমেন।
২০২১ সালের ৮ জানুয়ারী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার অনুমতিক্রমে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট সিলেট মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই কমিটির এক নাম্বার সদস্য হিসেবে রয়েছেন ড. মোমেন।
কমিটিতে আবুল মোমেনের থাকার তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি আমাদের কমিটির এক নাম্বার সদস্য হিসেবে আছেন। এক নাম্বার সদস্য দলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদ।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমানের দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাসুক উদ্দিন বলেন, আব্দুর রহমান কি বলেছেন আমি জানি না। তবে দলের কেউ না লে তিনি কিভাবে দলীয় প্রতীকে এমপি ও পরে সরকারের মন্ত্রী হন?
এরআগে দুপুরে মোমেনের বক্তব্য প্রসঙ্গে জবাবে আব্দুর রহমান বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করেই বলি, এটি আমাদের দলের কোনো কথা না। আমাদের দল সবসময় মনে করে ভারত আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পরীক্ষিত বন্ধু। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের অবদান আমরা কোনো অবস্থাতেই ভুলতে পারব না।’
আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য আরও বলেন, ‘তিনি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) তো আমাদের দলের কেউ না। আমাদের দল তার এই বক্তব্যে বিব্রত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
এ বিষয়ে জানার জন্য আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। দলে তার কোনো পদ-পদবিও নেই। তিনি সরকারের মন্ত্রী। কাজেই তিনি যা বলবেন সেটা কোনোভাবেই দলের বক্তব্য হতে পারে না। এ বিষয়ে আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক গতকাল (শুক্রবার) পরিষ্কার করে বলেছেন।
‘ভারত সম্পর্কিত বক্তব্য একান্তভাবেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের। কাজেই তার এমন মন্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ফেলা সমীচীন নয়।’
আলোচনা অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আব্দুর রহমান বলেন, ‘কথাবার্তা ও আচরণের ভেতর দিয়ে এমন কিছু বলবেন না যাতে দুষ্ট লোকেরা এর সুবিধা নিতে পারে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। এতটুকুই আপনার কাছে আমাদের চাওয়া।’
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা আমাদের আদর্শ। তাকে টিকিয়ে রাখতে পারলে আমাদের দেশ উন্নয়নের দিকে যাবে এবং সত্যিকারের সাম্প্রদায়িকতামুক্ত, অসাম্প্রদায়িক একটা দেশ হবে। শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা করতে অনুরোধ করেছি।’
তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালাচনার সৃষ্টি হয়। বিএনপির মহাসচিবও এই বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানান।
আর মোমেনের এমন মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কে আবদ্ধ। ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। কিন্তু তাই বলে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতকে অনুরোধ করব! এই ধরনের অনুরোধ আওয়ামী লীগ করে না, করেনি। শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকেও কাউকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি।’
তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে। ইচ্ছে করেই রং মেখে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে- এমন অভিযোগও এনেছেন তিনি।